![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করলে একপর্যায়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সংসদ অধিবেশন চলাকালে তারা সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যান।
প্রথমে পুলিশ আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে শিক্ষার্থীদের একাংশ সংসদ ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
লাঠিচার্জের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সংসদ ভবনের প্রধান ফটক এলাকা থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত সরিয়ে দেয়।
এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের চেষ্টা করেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এর আগে বিকেল পৌনে ৬টার দিকে আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা।
- প্রতিকূল পরিবেশে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষা পুনরায় আয়োজন।
- পরবর্তী পরীক্ষাগুলো স্থগিত করে শিক্ষার্থীবান্ধব নতুন পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ।
এর আগে বিকেল ৫টার দিকে সায়েন্সল্যাব এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আলটিমেটাম ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রথম দফায় সড়ক অবরোধ করেন। পরে তারা ঢাকা কলেজ, নিউমার্কেট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এরপর পুনরায় সায়েন্সল্যাব মোড়ে ফিরে দ্বিতীয় দফায় সড়ক অবরোধ করলে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোডসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
তবে আন্দোলনের পুরো সময় জরুরি সেবার কথা বিবেচনা করে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনের চলাচলে বাধা দেওয়া হয়নি বলে আন্দোলনকারীরা জানান।