• হোম > অর্থনীতি > আবারও বাড়ছে ডলারের দাম, কমছে টাকার মান

আবারও বাড়ছে ডলারের দাম, কমছে টাকার মান

  • মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২০:১৬
  • ৫৭

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

খোলা বাজারে ডলারের বিক্রয়মূল্য ১২৬.৫০ টাকা, যা কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ১.৫০ টাকা বেড়েছে

• ব্যাংকে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১২৪.৫০ টাকায়, এলসি খোলার ক্ষেত্রেও একই পর্যায়ের দর

• ডলার সংকটে আমদানিকারকদের উদ্বেগ বাড়ছে, আমদানি ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা

• রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের দামে বড় ব্যবধান, বাজারে তৈরি হয়েছে অসামঞ্জস্য

• এক বছরে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে ৯৯ পয়সা, যা ০.৮১ শতাংশ বৃদ্ধি

• আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সফরের মধ্যেই ডলারের দর বাড়ায় নতুন আলোচনা

প্রবা প্রতিবেদক

দেশের বাজারে মার্কিন ডলারের দাম আবার বাড়ছে। অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে টাকার মান বেশ কমে গেছে। খোলা বাজারে নগদ ডলারের দাম এখন ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায় উঠেছে। এতে আমদানিকারক ও সাধারণ গ্রাহকদের ওপর নতুন করে চাপ বাড়ছে। ব্যাংকগুলোতেও ডলারের দাম বৃদ্ধির ছোঁয়া লেগেছে। কয়েকটি ব্যাংক এখন ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে নগদ ডলার বিক্রি করছে। পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের দাম রাখা হচ্ছে ১২৪ টাকা। এই পরিস্থিতি দেশের আমদানিকারকদের নতুন উদ্বেগে ফেলেছে।

ডলার বিক্রির দামে ব্যাংকগুলোর মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক ১২৩ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। ব্যাংক দুটি গ্রাহকদের কাছ থেকে ডলার কিনেছে ১২২ টাকা দরে। তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর চিত্র ছিল আলাদা। বেসরকারি খাতের ইস্টার্ন ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে ডলার কিনেছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে। ব্যাংকগুলোর এমন ভিন্ন দর বাজারে এক ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি করেছে।

খোলা বাজারে ডলারের দর বৃদ্ধির গতি আরও বেশি। সোমবার খোলা বাজারে ডলারের ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যের মধ্যে ৩০ পয়সার ব্যবধান ছিল। সেখানে ডলার কেনার মূল্য ছিল ১২৬ টাকা ২০ পয়সা। আর বিক্রির মূল্য ছিল ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা। গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হয়েছিল ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায়। সেদিন ব্যবসায়ীরা ডলার কিনেছিলেন ১২৫ টাকা ২০ পয়সায়। তার এক সপ্তাহ আগে খোলা বাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছিল ১২৫ টাকায়। সেদিন ডলার কেনার মূল্য ছিল ১২৪ টাকা ৯০ পয়সা। মতিঝিলের একজন ডলার ব্যবসায়ী জানান, বাজারে বর্তমানে ডলারের তীব্র সংকট রয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় খোলা বাজারে দাম এভাবে বাড়ছে।

আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারেও ডলারের মূল্যে ঊর্ধ্বমুখী ভাব দেখা যাচ্ছে। সোমবার আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা। এদিন ডলারের সর্বনিম্ন দরও ছিল ১২৩ টাকা। আগের দিন রোববার এই বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা। তবে সর্বনিম্ন দর ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। সেদিন আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৯৭ পয়সা। গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার গড় দাম আরও কম ছিল। সেদিন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দর ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। ফলে গড় দরও ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। তিন সপ্তাহ আগের তুলনায় এই দর বেশ বেড়েছে। গত ২৪ জুন ডলারের গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। পৌনে তিন মাস আগে ২০ এপ্রিল এই দাম ছিল ১২২ টাকা ৭০ পয়সা। এক বছর আগের তুলনায় বর্তমানের পার্থক্যটি আরও স্পষ্ট। গত বছরের ৯ জুলাই আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের গড় দর ছিল ১২২ টাকা ১ পয়সা। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে দশমিক ৯৯ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এই বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে দশমিক ৮১ শতাংশ।

এই সময়ে ডলারের দাম বাড়ার পেছনে ভিন্ন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করছে। তারা সরকারের সাথে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ইতিমধ্যে দেশের নীতিনির্ধারকদের সাথে বৈঠক করেছেন। তারা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথেও তাদের বৈঠক হয়েছে। আইএমএফ শুরু থেকেই ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। ব্যাংক খাতের অনেকেই মনে করছেন, এই সফর ও ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে ডলারের দর বাড়ানো হচ্ছে। আইএমএফ প্রতিনিধিদলকে খুশি করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে এক বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উল্লেখ করেন।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, আইএমএফের সফর বা শর্তের সাথে ডলারের দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ার কারণেই দর বাড়ছে। তিনি জানান, অতি সম্প্রতি সরকারের কয়েকটি বড় পেমেন্ট বা দায় পরিশোধ করার প্রয়োজন হয়েছিল। সরকারি এই পেমেন্টগুলোর কারণেই বাজারে ডলারের চাহিদা হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যায়। দেশের বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনা বন্ধ রেখেছে। মুখপাত্র আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বমুখী ধারা এখন সচল রয়েছে। এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে ডলারের দর আর বাড়বে না। রেমিট্যান্সের প্রবাহ ঠিক থাকলে বাজার বর্তমানের জায়গায় স্থির থাকবে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা দেখার জন্য বাজার পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13862 ,   Print Date & Time: Monday, 7 September 2026, 08:08:49 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh