• হোম > রাজনীতি > দুর্যোগের মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা, সংসদে রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাব শিক্ষামন্ত্রীর

দুর্যোগের মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা, সংসদে রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাব শিক্ষামন্ত্রীর

  • মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৯:০৮
  • ৭২

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরীক্ষার্থীকে বঞ্চিত করা হবে না জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, এইচএসসি একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি জানতে চান, শিক্ষার্থীদের দাবি ও প্রতিকূল আবহাওয়া বিবেচনায় পরীক্ষা এক বা দুই দিন পিছিয়ে দিতে সরকারের কী সমস্যা ছিল।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা আয়োজনের আগে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়। পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসও বিবেচনায় নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতেই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

মন্ত্রী আরও জানান, বন্যা পরিস্থিতির কারণে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, যেখানে স্থানীয়ভাবে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে আগেই দেওয়া হয়েছিল।

কুমিল্লার একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের উদাহরণ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৃষ্টির কারণে কলেজ মাঠে পানি জমে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। ভেজা পোশাকের পরিবর্তে বিকল্প পোশাকের ব্যবস্থাও করা হয়। এ কারণে পরীক্ষা এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের সেই অতিরিক্ত সময় পূর্ণভাবে দেওয়া হয়েছে।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের কাজ দীর্ঘ সময় আগে সম্পন্ন হয়েছিল। পরীক্ষার ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ওই দুটি প্রশ্নে সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। ফলে কোনো শিক্ষার্থী এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

একই অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মার্জিয়া বেগমের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন প্রণয়নের কাজ চলমান এবং ভবিষ্যতে সেখানে আধুনিক কৃষি শিক্ষার জন্য বিশেষায়িত অনুষদ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13845 ,   Print Date & Time: Tuesday, 8 September 2026, 01:54:11 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh