• হোম > অর্থনীতি > ভি শিল্পে নতুন সম্ভাবনা: বাজেট সুবিধায় বাড়ছে বিনিয়োগ, বাড়ছে চার্জিং স্টেশন

ভি শিল্পে নতুন সম্ভাবনা: বাজেট সুবিধায় বাড়ছে বিনিয়োগ, বাড়ছে চার্জিং স্টেশন

  • মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৬:২৭
  • ৩৭

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যান (ইভি) শিল্প দ্রুত বিকাশের পথে এগোচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার কর ও শুল্ক-সুবিধা বাড়ানোর পর বেসরকারি খাতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আরও গতি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে উদ্যোক্তাদের মতে, এই সম্ভাবনাময় শিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, দ্রুত গ্রিড সংযোগ দেওয়া এবং লাভজনক চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা।

বাজেটে বৈদ্যুতিক যানবাহনের আমদানি শুল্ক কমানোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ইভি উৎপাদনে কর প্রণোদনা, চার্জিং যন্ত্রপাতিতে শুল্ক ছাড় এবং চার্জিং স্টেশন অপারেটরদের জন্য আর্থিক সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খসড়া ইভি শিল্প উন্নয়ন নীতিমালায় চার্জিং স্টেশন ব্যবসার জন্য ১০ বছরের আয়কর অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১,২০০টি বাণিজ্যিক ইভি চার্জিং স্টেশন স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও বাস্তবায়ন নির্দেশিকা তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)। ইতোমধ্যে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের জন্য বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সেগুলোর অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের ইভি শিল্পে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, যারা চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ইভি উৎপাদন কারখানা ও চার্জিং অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এছাড়া নাসির গ্রুপ, আকিজ মোটরস, র‍্যানকন মোটরস, রানার অটোমোবাইলস, প্রাণ-আরএফএল, ওয়ালটনসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইভি উৎপাদন ও চার্জিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে।

স্রেডার তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত ৩২টি বাণিজ্যিক চার্জিং স্টেশন অনুমোদন দেওয়া হলেও বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র ৯টি। এগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও কক্সবাজারে পরিচালিত হচ্ছে। একই সময়ে হাজার হাজার হোম চার্জিং ইউনিটও স্থাপন করা হয়েছে।

তবে শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে এই খাত প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারবে না। রানার অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেন, আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি চালু করতে উচ্চমানের ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন, যা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা আরও জানান, একটি আধুনিক ডিসি ফাস্ট চার্জিং স্টেশন নির্মাণে প্রায় ১ থেকে ১.৫ কোটি টাকা এবং উন্নত অবকাঠামোসহ আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপনে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। কিন্তু দেশে এখনো ইভির সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পেতে সময় লাগছে।

এদিকে সরকার রাজধানী ঢাকায় ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফল করতে হলে পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো, দক্ষ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈদ্যুতিক যান শিল্প বাংলাদেশের পরিবহন ও উৎপাদন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকারি নীতিগত সহায়তা, বেসরকারি বিনিয়োগ, আধুনিক চার্জিং নেটওয়ার্ক এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ—এই চারটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগোতে হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13829 ,   Print Date & Time: Tuesday, 8 September 2026, 07:52:25 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh