![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে ঘোষণার যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক’, ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ এবং আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থী বলে দাবি করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একটি আনুষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় অংশ। ফলে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির পরিপন্থী।
এর আগে সোমবার বিদেশি রাষ্ট্রের পক্ষে পরিচালিত নজরদারি, নাশকতা এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রণীত নতুন নিরাপত্তা আইনের আওতায় আইআরজিসি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে যুক্তরাজ্য।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, একই তালিকায় ইরান-সংশ্লিষ্ট ইসলামিক মুভমেন্ট অব কম্প্যানিয়ন্স অব দ্য রাইট নামের আরেকটি সংগঠনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সংগঠনটির বিরুদ্ধে ইহুদি ও ইসরায়েলি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার দায় স্বীকারের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাজ্য রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার আন্তর্জাতিক শাখা রাশিয়ান ফেডারেশন ভলান্টিয়ার কর্পস (জিআরইউ)-কেও একই আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও বিদেশে প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করার অভিযোগ তেহরান বারবার অস্বীকার করেছে। দেশটির দাবি, আইআরজিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা ইস্যু এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বিরোধের নতুন মাত্রা যোগ করেছে যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত। ফলে সামনের দিনগুলোতে দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।