• হোম > বাংলাদেশ > শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য: তথ্য উপদেষ্টা

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য: তথ্য উপদেষ্টা

  • মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৫:১৩
  • ৬০

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য: তথ্য উপদেষ্টা

সরকার শুরু থেকেই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের চেষ্টা করছে এবং এ বিষয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই সরকারের লক্ষ্য।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট। সরকার তাকে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দেশে ফিরলে তাকে স্বাগত জানানো হবে, তবে সেটি রাজনৈতিক অর্থে নয়; বরং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে। তিনি বলেন, আদালতে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই সরকারের উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা যদি দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসেন, তবে দেশে ফিরে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তিনি চাইলে বিশ্বের খ্যাতিমান আইনজীবীদের নিয়োগ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারবেন। বিচার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে পর্যবেক্ষক রাখার সুযোগ এবং ভিডিও ধারণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। ফলে পুরো বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে। তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার দেখতে চায় এবং আদালতের দেওয়া রায় বহাল থাকুক—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে।

তিনি বলেন, যদি শেখ হাসিনা আদালতে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, অথবা আদালত তাকে অন্য কোনো শাস্তি দেন কিংবা খালাস দেন, সরকার সেই রায়ও মেনে নেবে। তার ভাষায়, ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তিই হলো অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনা এখন দেশের রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক একজন ব্যক্তি। বিভিন্ন মাধ্যমে তার বক্তব্য প্রচারিত হওয়ায় তিনি কিছুটা প্রাসঙ্গিকতা পাচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল অনেক মানুষও মনে করেন, তার আর কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে সরকার কোনো চাপ বা সংকট হিসেবে দেখছে না। বরং সরকার নিজেই তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছে। শুধু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নয়, বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শেখ হাসিনা কীভাবে দেশে ফিরবেন—এ বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, সেটি দুই দেশের মধ্যে নিয়মতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো তাকে দেশে ফিরিয়ে আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এটি সরকারের সিদ্ধান্ত নয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা। সরকার কেবল আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন এই সিদ্ধান্তে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তাহলে আদালতেই সেই আদেশ চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে সেটি আর কার্যকর থাকবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য না করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। রাষ্ট্রের আইন ও বিচারিক আদেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সবার দায়িত্ব।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13815 ,   Print Date & Time: Tuesday, 8 September 2026, 12:41:48 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh