• হোম > কক্সবাজার | চট্টগ্রাম | বাংলাদেশ > চট্টগ্রামে প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতি ২৮ কোটি টাকা

চট্টগ্রামে প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতি ২৮ কোটি টাকা

  • সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২২:৫৪
  • ৫১

চট্টগ্রামে প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতি ২৮ কোটি টাকা

টানা বর্ষণ ও বন্যায় চট্টগ্রামের প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার ১৫টি উপজেলায় গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ মোট ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫৫৫টি প্রাণী বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮৫টি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার। পাশাপাশি ১১৮ টন হাঁস-মুরগির খাদ্য এবং ১৭ হাজার ৮৪০ টন পশুখাদ্য নষ্ট হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রাণিসম্পদ খাতে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৯০০ টাকা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের প্রাথমিক জরিপে এই তথ্য উঠে এলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। এতে শত শত খামারি ও হাজার হাজার কৃষক মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০টি মুরগি ও ১৫ হাজার ৬০০টি হাঁস আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১ লাখ ৩৯৫টি মুরগি এবং ১ হাজার হাঁস। গবাদিপশুর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ হাজার ৩২০টি গরু, ৩২৫টি মহিষ, ৬০ হাজার ৫০০টি ছাগল এবং ১০ হাজার ৩১০টি ভেড়া। প্রাণহানির মধ্যে রয়েছে ৩৫টি গরু, ৮৭টি ছাগল এবং ৪০টি ভেড়া।

বন্যায় ৭০ লাখ ৮০ হাজার টাকার হাঁস-মুরগির খাদ্য নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ১১ হাজার ৭৬০ টন খড় নষ্ট হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ ১৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং ৬ হাজার ৮০ টন ঘাস নষ্ট হওয়ায় ক্ষতি হয়েছে ৬ কোটি ৮ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে হওয়া এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও গবাদিপশু পালনকারীরা জানান, অনেকের মুরগির খামার এবং গরুর গোয়ালঘর বন্যায় ধ্বংস হয়েছে। মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারলেও গবাদিপশুর জন্য তেমন ব্যবস্থা ছিল না। ফলে অনেক পশু ভেসে গেছে। একই সঙ্গে পশুখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় মানুষ নিজেদের খাদ্যসংকট সামলাতেই হিমশিম খাওয়ায় পশুর খাদ্যের ব্যবস্থা করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে বাঁশখালীতে ২২টি, পটিয়ায় ২০টি এবং সাতকানিয়ায় ১৫টি গবাদিপশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সন্দ্বীপ, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়ায় দুটি করে এবং হাটহাজারীতে তিনটি গবাদিপশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাঁস-মুরগির খামারের মধ্যে বাঁশখালীতে ৭টি, সাতকানিয়ায় ৬টি, ফটিকছড়িতে ৪টি, হাটহাজারী ও চন্দনাইশে ৩টি করে এবং কর্ণফুলীতে ২টি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে ১২ হাজার ৫১০টি গরু, ৮ হাজার ২৩০টি ছাগল এবং ১ লাখ ৫৫টি মুরগি বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১২টি গরু, ৩৯টি ছাগল এবং ২০ হাজার ২০০টি মুরগি। সাতকানিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজার ৯৮০টি গরু ও ৯ হাজার ৬৫০টি ছাগল; মারা গেছে ৮টি গরু ও ৩৯টি ছাগল। এছাড়া সন্দ্বীপে ৩টি, আনোয়ারায় ৪টি, হাটহাজারীতে ৩টি, কর্ণফুলীতে ২টি, পটিয়ায় ২টি এবং মীরসরাইয়ে ১টি গরু বন্যায় মারা গেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13785 ,   Print Date & Time: Tuesday, 8 September 2026, 10:29:05 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh