![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের বিরোধী দলের নির্বাচিত আসনগুলোতে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে গিয়ে আখতার হোসেন বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সম্প্রতি রংপুরের পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর সফরের সময় ওই এলাকাকে নিজের ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বক্তব্যেও এমন ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের পরিবর্তে সংরক্ষিত নারী এমপিই ওই এলাকার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছিল সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের কাউকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। অথচ সংসদেই একজন নারী এমপি অতিরিক্ত দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তাই এই দায়িত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি, পরিধি এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
আখতার হোসেনের অভিযোগ, বিরোধী দলের নির্বাচিত আসনগুলোতেই সংরক্ষিত নারী এমপিদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। তার ভাষায়, এ ধরনের উদ্যোগ বিরোধী দলের রাজনৈতিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।
পরে ডেপুটি স্পিকারের অনুমতিতে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ৩০০টি সাধারণ আসনের পাশাপাশি ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিয়ে গঠিত। তবে সাধারণ আসনের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক বা আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকা নির্ধারিত নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা পুরো বাংলাদেশজুড়েই সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তারা সংসদ সদস্য হিসেবে যেসব সরকারি বরাদ্দ বা উন্নয়ন সহায়তা পান, তা দেশের যেকোনো এলাকায় ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরাও পূর্ণাঙ্গ সংসদ সদস্য। ফলে তারা দেশের যেকোনো এলাকায় উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে বা বরাদ্দ প্রদান করতে পারেন। এটি সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী বৈধ এবং এতে কোনো সাংবিধানিক অসঙ্গতি নেই।
এদিকে সংসদে এই বিষয়টি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের দায়িত্বের সীমা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে ভবিষ্যতেও বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।