![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
টানা ভারী বর্ষণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে কুমিল্লা নগরী। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে মাত্র তিন ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতেই শহরের অধিকাংশ সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। অনেককে নৌকায় চড়ে কিংবা হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় ১৩৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা নগরজুড়ে আকস্মিক জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো কোমরসমান পানিতে ডুবে যায়। সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘ পথ পানির মধ্যে হেঁটে পরীক্ষা দিতে যান। যানবাহনের সংকটের কারণে অটোরিকশা ভাড়াও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পাঁচ থেকে দশ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা স্থগিত না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হয় এবং আকস্মিক বৃষ্টিপাতের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল না।
অতিবৃষ্টির কারণে নগরীর বিভিন্ন বাসাবাড়ির নিচতলা, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের নিচতলাও প্লাবিত হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। এছাড়া ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের কবি নজরুল হলের ছাত্রাবাসে পানি ঢুকে সাপ প্রবেশের ঘটনাও ঘটেছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
দৌলতপুর এলাকার ব্যবসায়ী ফেরদৌস আলম জানান, ভোররাতের টানা বৃষ্টিতে দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম বলেন, পচা পানির দুর্গন্ধ ও সাপের ভয়ে ছাত্রাবাসে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কুমিল্লা আবহাওয়া উপকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, সকাল ছয়টা থেকে নয়টার মধ্যে হওয়া ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিই নগরীর জলাবদ্ধতার মূল কারণ। তিনি জানান, ভারী বর্ষণের সতর্কতা এখনো বহাল রয়েছে। তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থতার অভিযোগে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছে। যদিও সিটি করপোরেশনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট সাময়িক জলাবদ্ধতা দূর করতে পরিচ্ছন্নতা ও জরুরি সেবাদানকারী দলগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে নগরবাসীকে ধৈর্য ধারণ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।