ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইংল্যান্ড জাতীয় দলকে অনুপ্রেরণা জোগাতে ড্রেসিংরুমে বাজানোর জন্য তিনটি গানের নাম বেছে নেওয়া হয়েছিল। ওয়েসিসের ‘Wonderwall’, নিল ডায়মন্ডের ‘Sweet Caroline’ এবং বিটলসের কিংবদন্তি গান ‘Hey Jude’। টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, শেষের গানটি যেন নতুন অর্থ পেয়েছে। কারণ এখন ‘হেই জুড’ মানেই ইংল্যান্ডের ফুটবল সমর্থকদের কাছে জুড বেলিংহাম।
মাত্র ২৩ বছর বয়সেই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফুটবলার হয়ে উঠেছেন এই মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে থ্রি লায়ন্স। অধিনায়ক হ্যারি কেইনের পাশাপাশি বেলিংহামের অবদানও সমানভাবে আলোচনায়।
মিডফিল্ডার হয়েও গোলমেশিন
আধুনিক ফুটবলে বেলিংহামকে একজন আদর্শ ‘বক্স টু বক্স’ মিডফিল্ডার বলা হলেও মাঠে তিনি অনেকটা স্ট্রাইকারের ভূমিকাও পালন করছেন। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ৬ গোল করেছেন তিনি, যা একজন মিডফিল্ডারের জন্য বিরল কীর্তি।
ইংল্যান্ডের ছয় ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন বেলিংহাম। নকআউট পর্বে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
বার্মিংহাম থেকে রিয়াল মাদ্রিদ
২০১৯ সালের আগস্টে মাত্র ১৬ বছর ৩৮ দিন বয়সে বার্মিংহাম সিটির হয়ে অভিষেক হয় বেলিংহামের। মাত্র ৪৪টি ম্যাচ খেলেই প্রায় ২ কোটি পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে যোগ দেন বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে। তাঁর প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে বার্মিংহাম সিটি ক্লাব ১৭ নম্বর জার্সিটি অবসর ঘোষণা করে—যা সাধারণত কিংবদন্তি ফুটবলারদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।
ডর্টমুন্ডে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর ইংল্যান্ড জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকা করেন তিনি। এরপর ২০২৩ সালে যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে। প্রথম মৌসুমেই ১৯ গোল করে লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পান।
চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
গত এক বছরে কাঁধের চোটের কারণে কিছুটা কঠিন সময় পার করতে হয়েছিল বেলিংহামকে। জাতীয় দলেও তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নতুন কোচ টমাস টুখেলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা ছিল।
তবে বিশ্বকাপে মাঠেই সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি। গ্রুপ পর্বে গুরুত্বপূর্ণ গোলের পর শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর বিপক্ষে জোড়া গোল করেন। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষেও দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তোলার নায়ক হন।
প্রশংসায় ফুটবল বিশ্ব
বেলিংহামের অসাধারণ পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সতীর্থ থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষও।
ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন বলেন, বেলিংহাম ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় উপস্থিত থাকার অসাধারণ ক্ষমতা রাখেন।
নরওয়ের তারকা আর্লিং হলান্ড মন্তব্য করেন, ইংল্যান্ড বেলিংহামের মতো একজন ফুটবলার পেয়ে সত্যিই ভাগ্যবান।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকার মনে করেন, জুড বেলিংহাম ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ফুটবলার হওয়ার সামর্থ্য রাখেন।
সেমিফাইনালের আগে বড় স্বস্তি
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলে সেমিফাইনাল মিস করতে হতো বেলিংহামকে। তবে সতর্ক থেকে ম্যাচ শেষ করেন তিনি। ম্যাচ শেষে জানান, পুরো সপ্তাহজুড়ে তাঁর মা ডেনিস বেলিংহাম তাঁকে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিয়ে গেছেন।
এখন ইংল্যান্ডের কোটি সমর্থকের একটাই আশা—‘হেই জুড’-এর সুরে ভর করে জুড বেলিংহাম দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালেও পৌঁছে দেবেন।