ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এ উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত কাতার দূতাবাসে খোলা শোক বইয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (১৩ জুলাই) সরকারের জ্যেষ্ঠতম মন্ত্রী হিসেবে তিনি শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
শোকবার্তায় মন্ত্রী শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার, দেশের জনগণ এবং ব্যক্তিগতভাবে কাতার সরকার, রাজপরিবার ও দেশটির জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কাতারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ, আন্তরিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে এবং ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
১৬ জুলাই অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামী ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে।
এদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং মরহুমের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
দোহায় যাবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল
কাতারের আমির, রাজপরিবার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ও সমবেদনা জানাতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল দোহা সফর করবে বলেও জানানো হয়েছে।
১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের নেতৃত্বে
রোববার কাতারের আমিরের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুর খবর জানানো হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
শেখ হামাদ ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশটি অর্থনীতি, জ্বালানি, অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে। ২০১৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।