• হোম > বাংলাদেশ | মতামত | হবিগঞ্জ > যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

  • সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১৫:১১
  • ৭৫

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। চীন-যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কযুদ্ধের ফলে মার্কিন বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন হওয়ায় বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক সরবরাহকারী দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হিসেবে অবস্থান সুসংহত করেছে।

ইউএস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ কম, তবুও একই সময়ে চীনের রপ্তানি প্রায় ৪৩ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসায় বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে।

পাঁচ মাসে চীনের পোশাক রপ্তানি আয় ৪২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি রপ্তানিকৃত পোশাকের পরিমাণ কমেছে প্রায় ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং প্রতি ইউনিট পোশাকের গড় মূল্যও ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান শুল্কসংক্রান্ত বিরোধের কারণে মার্কিন ক্রেতারা বিকল্প সরবরাহকারী দেশের দিকে ঝুঁকছেন, যার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

যদিও সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি বাজারে মন্দাভাব রয়েছে এবং এ সময়ে মোট আমদানি ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, তবুও মে মাসে বাংলাদেশের রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ ৫৮২ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা ২০২৫ সালের একই মাসের ৫৪৮ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ বেশি।

এদিকে, ভিয়েতনাম ৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে এবং দেশটির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এছাড়া কম্বোডিয়া ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ১ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। ইন্দোনেশিয়াও ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, চীনের বাজার হারানোর এই সুযোগকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন এবং দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা মনে করেন, সরকার ও বেসরকারি খাত সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে বাংলাদেশ শুধু দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখাই নয়, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পোশাক বাজারে আরও বড় অংশীদারিত্ব অর্জন করতে সক্ষম হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13744 ,   Print Date & Time: Wednesday, 9 September 2026, 12:38:42 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh