![]()
টানা বর্ষণে কুমিল্লা নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের ফলে প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এতে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সোমবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। প্রধান সড়ক, আবাসিক এলাকা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় অনেক এইচএসসি পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। অনেককে ভেজা কাপড়েই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হয়েছে, আবার কেউ কেউ জলাবদ্ধ সড়কে পড়ে গিয়ে বিপাকে পড়েন।
কুমিল্লা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগসহ রোগীদের শয্যার নিচ পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়েছে। কুমিল্লা সিভিল সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, বাইরে থেকে পানি হাসপাতালে প্রবেশ করেছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে এবং বৃষ্টি কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে মনোহরপুর, মহিলা কলেজ রোড, বাগানবাড়ি, দক্ষিণ চর্থা, জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইন্স, রেসকোর্স, উত্তর রেসকোর্স, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর ও ছায়াবিতান এলাকায়। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়ে। অনেক জায়গায় ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
সদর হাসপাতাল সড়কের ওষুধ ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, গত ১০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম তার দোকানের ভেতরে পানি ঢুকেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ জানান, তার বাসার নিচতলাও পানিতে তলিয়ে গেছে এবং ড্রেন ও নালা দিয়ে পানি দ্রুত নামতে না পারায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী লিপি আক্তার বলেন, এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে পরীক্ষা দিতে যেতে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। অভিভাবকরাও বর্ষাকালে পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জলাবদ্ধতার সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে। মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভেতরে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য নৌকার ব্যবস্থাও করা হয়।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় মোট ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দিনভর আরও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাসার জানান, এই কেন্দ্রে আটটি কলেজের প্রায় ২ হাজার ১০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। মাঠে পানি জমলেও পরীক্ষার কক্ষগুলোতে পানি প্রবেশ করেনি। যেসব পরীক্ষার্থী জলাবদ্ধতার কারণে দেরিতে এসেছে, তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ বলেন, বোর্ডের অধীন ছয় জেলায় বিভিন্ন কেন্দ্রে জলাবদ্ধতা দেখা দিলেও কোনো পরীক্ষা কক্ষে পানি প্রবেশ করেনি। দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে সহানুভূতিশীল হওয়ার জন্য কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, পরীক্ষা শুরুর আগেই তিনি বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই জমে থাকা পানি নেমে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।