• হোম > অর্থনীতি > বিকাশ-সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল ন্যানো লোন বিতরণ ছাড়াল ১০ হাজার কোটি টাকা

বিকাশ-সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল ন্যানো লোন বিতরণ ছাড়াল ১০ হাজার কোটি টাকা

  • সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১৪:২০
  • ৬১

 

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবায় নতুন এক মাইলফলক অর্জন করেছে সিটি ব্যাংক ও বিকাশ। দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ডিজিটাল ন্যানো লোন সেবার মাধ্যমে মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। দেশের ডিজিটাল ঋণসেবা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই সেবার আওতায় এখন পর্যন্ত ৩৫ লাখ বিকাশ অ্যাপ ব্যবহারকারী মোট ৩ কোটি ১৯ লাখ ঋণ অ্যাকাউন্টে ঋণ গ্রহণ করেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একজন গ্রাহক গড়ে ৯ বারেরও বেশি এই স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়েছেন। এতে সহজ ও দ্রুত ঋণসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা এবং চাহিদার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি যোগ্য বিকাশ গ্রাহক এই ডিজিটাল ঋণ সুবিধার আওতায় রয়েছেন। এদের বড় একটি অংশ আগে কখনো ব্যাংক ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাননি অথবা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল খুবই সীমিত।

এখন যোগ্য গ্রাহকরা বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে এক মিনিটেরও কম সময়ে কোনো ব্যাংক শাখায় না গিয়ে এবং কোনো ধরনের কাগজপত্র জমা না দিয়েই ঋণ গ্রহণ করতে পারছেন। ফলে জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটানো আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে।

বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ গ্রাহক বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সিটি ব্যাংকের এই ন্যানো লোন গ্রহণ করছেন। প্রতিটি ঋণের গড় পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার টাকা, আর প্রতি মাসে ঋণ বিতরণের পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা।

এই ঋণের অর্থ মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি, পারিবারিক ব্যয়, চিকিৎসাজনিত জরুরি প্রয়োজন, শিক্ষা ব্যয় এবং দৈনন্দিন আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ব্যবহার করছেন গ্রাহকরা।

সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, এই ঋণসেবার পরিশোধ হার অত্যন্ত সন্তোষজনক। মোট বিতরণ করা ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে খেলাপি ও অবলোপন করা ঋণের পরিমাণ মাত্র ৫৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণের মাত্র ০.৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ৯৯.৫ শতাংশ ঋণ সময়মতো পরিশোধ করেছেন গ্রাহকরা।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন ছোট অঙ্কের ডিজিটাল ঋণে এত উচ্চ পরিশোধ হার পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা থেকে দেশের আর্থিক খাত ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ঋণসেবা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষুদ্র ঋণসেবা শুধু আর্থিক অন্তর্ভুক্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা লাখো মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13722 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 08:05:10 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh