• হোম > অর্থনীতি > কর ফাঁকি রোধে কঠোর সরকার, ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা

কর ফাঁকি রোধে কঠোর সরকার, ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা

  • রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪৯
  • ৪৭

 

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি কমানো, কর ফাঁকি রোধ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার একযোগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে ধনী ব্যক্তি ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি বন্ধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, ঝুঁকি-ভিত্তিক নিরীক্ষা এবং ডিজিটাল কর ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

রোববার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদা এবং গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ. কে. এম. ফজলুল হক মিলনের পৃথক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, কর আদায় ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করতে করপোরেট করদাতাদের জন্য ইলেকট্রনিক রিটার্ন (ই-রিটার্ন) ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) সংযোগের মাধ্যমে করদাতাদের তথ্য যাচাই ও সমন্বয়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোন খাত থেকে কত রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা, তা নির্ধারণে শিল্পভিত্তিক গড় সূচক ব্যবহার করে ঝুঁকি-ভিত্তিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে উৎসে কর কর্তন ব্যবস্থার আওতা বাড়ানো হচ্ছে। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কর ফাঁকি দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া উচ্চ মূল্যস্ফীতি সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কমতে শুরু করেছিল। ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তা ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে এলেও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের নানা প্রভাবের কারণে ২০২৬ সালের মে মাসে আবার বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে।

তিনি জানান, অতিরিক্ত চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার (রেপো রেট) ১০ শতাংশে বহাল রেখেছে। একই সঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব উৎস থেকে সরবরাহ করবে। সরকারের আশা, এই অর্থায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়বে, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ কমবে।

তিনি আরও বলেন, ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাজারভিত্তিক ও নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই নীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সরকার আশা করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতে, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13660 ,   Print Date & Time: Thursday, 27 August 2026, 04:30:32 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh