![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক আবুল হায়াত এবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) চতুর্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে ‘নাট্যজন সম্মাননা’ পাচ্ছেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলা নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১২ জুলাই) অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে আবুল হায়াতের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের প্রস্তুতি সভায় বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. ইসমত আরা ভূঁইয়া এবং সহকারী অধ্যাপক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঞ্চনাটক, টেলিভিশন নাটক, নাট্যরচনা এবং নাট্যনির্দেশনায় দীর্ঘদিনের অসাধারণ অবদানের জন্য ৮২ বছর বয়সী এই গুণী শিল্পীকে এবারের আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবের সর্বোচ্চ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। উদ্বোধক হিসেবে থাকবেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ইসরাফীল। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমাদুল হুদা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রফেসর ড. আরিফ হায়দার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. ইসমত আরা ভূঁইয়া।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে ১২ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে চতুর্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সামনে। পরবর্তী ছয় দিনের নাট্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে পুরাতন কলাভবনের জিয়া হায়দার ল্যাব প্রেক্ষাগৃহে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় দর্শকদের জন্য নাটক মঞ্চস্থ করা হবে।
উৎসবের উদ্বোধনী দিনে দর্শকরা উপভোগ করবেন ‘ভাষা অথবা প্রেমের রাজনৈতিক বিপর্যয়’ নাটক। পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে মঞ্চস্থ হবে ‘কালিকা’, ‘ইন্ডিপেন্ডেন্স’, ‘একশ বস্তা চাল’, ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘ক্রীতদাসের হাসি’ এবং সমাপনী দিনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন পরিবেশন করবে ‘পঞ্চমীর চাঁদ’ নাটক।
আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক নাট্যনির্দেশনা, সৃজনশীলতা এবং প্রযোজনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি নাট্যচর্চার মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই এই আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবের মূল লক্ষ্য। টানা চতুর্থবারের মতো আয়োজিত এ উৎসব দেশের নাট্যাঙ্গনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।