• হোম > বাংলাদেশ > টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা, পানিতে তলিয়ে কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য

টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা, পানিতে তলিয়ে কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য

  • শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪৩
  • ৫২

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের একাধিক শেড ও পণ্যাগারে হাঁটুপানি জমে থাকায় কোটি কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য পানিতে ভিজে ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে বন্দর এলাকার ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন অন্তত পাঁচটি শেড পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় পণ্য ওঠানামা এবং পরিবহন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

পানিতে তলিয়ে আমদানিকৃত মালামাল

বন্দর সূত্র জানায়, বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত পণ্য সংরক্ষণ করা শেডগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণে পাওয়ার পাম্প ব্যবহার করা হলেও অবিরাম বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতায় বাড়ছে ক্ষতি

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেনাপোল বন্দরে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে শত শত কোটি টাকার পণ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে।

তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ কারণে অনেক আমদানিকারক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার অভিযোগ

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, পানিতে ভিজে পণ্য নষ্ট হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বীমা না থাকায় ব্যবসায়ীরা কোনো ক্ষতিপূরণ পান না। ফলে পুরো ক্ষতির বোঝা তাদেরই বহন করতে হয়।

ব্যবসায়ী আব্দুল অলিম বলেন, বন্দরের ভাড়া নিয়মিত বাড়ানো হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণেই প্রতি বর্ষায় একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

বছরে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব, তবু সমস্যার সমাধান নেই

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর একই সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

তার দাবি, এই বন্দর থেকে সরকার বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রাজস্ব আদায় করলেও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধান এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে প্রতিটি বর্ষা মৌসুমে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টির কারণে কয়েকটি শেডে পানি ঢুকে মালামাল ভিজে গেছে। দ্রুত পানি অপসারণে পাওয়ার পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন জলাবদ্ধতা এড়াতে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধান বাস্তবায়নের বিষয়েও কাজ চলছে।

ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সাময়িক ব্যবস্থা নয়, বরং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বেনাপোল বন্দরের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। এতে একদিকে যেমন আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি কমবে, অন্যদিকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13561 ,   Print Date & Time: Wednesday, 23 September 2026, 05:43:20 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh