![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে এবং বাংলাদেশ আশা করছে, ভারত বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমার মনে হয় বিষয়টি ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে। আমি আশা করি, ভারত এর গুরুত্ব বুঝবে এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে আসবে।”
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছরের জন্য গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই হিসাবে ২০২৬ সালেই চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন কোনো চুক্তি বা নবায়ন না হলে বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর প্রবাহের পরিবর্তন এবং জনসংখ্যাগত বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে চুক্তিটি নতুনভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তারা বলছেন, শুধু কূটনৈতিক বা প্রকৌশলগত দৃষ্টিকোণ নয়; অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী এবং পরিবেশবিদদেরও এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা উচিত।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন, খাদ্যপ্রাপ্যতা এবং জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গাসহ মোট ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর পানি ব্যবস্থাপনা ও বণ্টন নিয়ে আলোচনা করতে দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।
ভারতে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার তারিক এ. করিম সম্প্রতি এক সেমিনারে বলেন, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তি প্রমাণ করেছে যে, সংবেদনশীল বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্ভব। তবে বর্তমান জলবায়ু বাস্তবতায় চুক্তির নবায়নই নির্ধারণ করবে দক্ষিণ এশিয়া পরিবর্তিত নদীপ্রবাহের সঙ্গে কতটা কার্যকরভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পানি, খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু সহনশীলতা এখন পুরো অঞ্চলের যৌথ স্বার্থের বিষয়। এসব ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক শাহাব এনাম খানও মনে করেন, ১৯৯৬ সালের বাস্তবতা ও ২০২৬ সালের বাস্তবতা এক নয়। তাই তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতি, আন্তঃবিষয়ক গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নতুন চুক্তির বিষয়ে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।