![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও তীব্র সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার লক্ষ্যেই ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, মার্কিন হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশ কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। এতে দুই দেশের মধ্যকার অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন।
সেন্টকম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার প্রতি ইরানের হুমকির সক্ষমতা আরও কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত হামলা শুরু করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
মার্কিন হামলার পর ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর জবাবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা চালায় ইরান। দেশ দুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার অভিযান চলছে। এদিকে কাতার সাময়িকভাবে ‘উচ্চ নিরাপত্তা হুমকি’ সতর্কতা জারি করলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বুধবারের হামলা মঙ্গলবারের তুলনায় আরও বিস্তৃত হতে পারে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেখেন, “গতকাল জাহাজে ইরানের বোমা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এটি করা হচ্ছে। আবার এমন হলে পরিস্থিতি আরও অনেক খারাপ হবে।”
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। ফলে এই প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
যদিও পণ্যবাহী জাহাজে হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি ইরান, তবে বিভিন্ন বিশ্লেষকের ধারণা, কূটনৈতিক আলোচনায় কৌশলগত সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যেই তেহরান এমন পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এখনো বুঝতে পারেনি যে দাদাগিরি ও অঙ্গীকার ভঙ্গের মূল্য না দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। আপনারা আঘাত করলে পাল্টা আঘাত পাবেন।” তিনি আরও দাবি করেন, “হরমুজ প্রণালি কেবল ইরানের ব্যবস্থাপনার অধীনেই পুনরায় খুলবে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে নয়।”
সর্বশেষ এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি সমঝোতাকে স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের এই সংঘাতের সূচনা হয়।