• হোম > খেলা | ফুটবল > আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ ঘিরে বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ফিফা

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ ঘিরে বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ফিফা

  • বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ১৫:৩২
  • ৭৫

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ ঘিরে বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ফিফা

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব ও নকআউট মিলিয়ে টানা ২৮ দিনের লড়াই শেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনাল। তবে টুর্নামেন্ট শেষ আটে পৌঁছালেও থামছে না আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচ ঘিরে রেফারিং বিতর্ক।

শেষ ষোলোর ওই ম্যাচে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকো। তাদের অভিযোগ, ম্যাচে আর্জেন্টিনা বাড়তি সুবিধা পেয়েছে, এমনকি ম্যাচ পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

তবে এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ফিফা। সংস্থাটির প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়ারলুইজি কলিনা বলেছেন, ম্যাচের রেফারিং নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।

ফিফার অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কলিনা ম্যাচের বিতর্কিত দুটি সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন। তার মতে, ম্যাচে রেফারি বা ভিএআরের কোনো ভুল ছিল না।

মিসরের আপত্তির কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুটি ঘটনা। প্রথমটি, ৫৮ মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোল ভিএআরের পর বাতিল হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বিরুদ্ধে একটি ফাউল হয়েছিল। ভিএআরের পরামর্শে রেফারি সেই ফাউল বিবেচনায় নিয়ে গোল বাতিল করেন।

দ্বিতীয় ঘটনাটি যোগ করা সময়ের এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোল। গোল হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে হুলিয়ান আলভারেজের সঙ্গে মোহামেদ সালাহর সংঘর্ষে ফাউলের দাবি তোলে মিসর। তবে রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে দেন এবং ভিএআরও হস্তক্ষেপ করেনি।

এ বিষয়ে কলিনা বলেন, “প্রতিটি গোলের পর ভিএআর পুরো অ্যাটাকিং পজেশন ফেজ পর্যালোচনা করে। গোল হওয়ার আগে কোনো ফাউল শনাক্ত হলে এবং সেটি গোলের সঙ্গে সম্পর্কিত হলে, ভিএআর রেফারিকে ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “গোল থেকে ফাউলের দূরত্ব বা সময়ের ব্যবধানের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। একটি ফাউল যদি ফাউলই হয়, তবে সেটি বিবেচনায় নেওয়া হবে। মাঠের রেফারি তা দেখতে না পেলেও ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে।”

সালাহ–আলভারেজের সংঘর্ষ প্রসঙ্গে কলিনার ব্যাখ্যা, “রেফারি ও ভিএআর ঘটনাটিকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ (নরমাল ফুটবল কনট্যাক্ট) হিসেবে বিবেচনা করেছেন। একজন ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করলে এবং এরপর স্বাভাবিক সংঘর্ষ হলে সেটি ফাউল নয়।”

পাঁচবারের বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক রেফারি কলিনা রেফারিদের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ফুটবলে সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিক। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো জায়গা নেই। বিশ্বকাপের রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্যও হুমকির কারণ হতে পারে।”

একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ম্যাচ পরিচালনায় ফিফা প্রেসিডেন্ট বা অন্য কারও কোনো প্রভাব থাকে না।

কলিনার ভাষায়, “ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও রেফারিং সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব রাখেন না। রেফারিরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং খেলোয়াড় ও কোচদের মতো তারাও সবসময় নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন।”


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13461 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 03:26:12 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh