![]()
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এটি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক, নির্বাচনী ও জাতীয় অঙ্গীকার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের অর্জন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায়ের প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফ্যাসিবাদের ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল। শুরু থেকেই বিএনপি এ সংশোধনীকে সংবিধানবিরোধী বলে উল্লেখ করে আসছিল। হাইকোর্ট সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং বাকি বিষয়গুলো জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। পরবর্তীতে আপিল বিভাগও সেই রায় বহাল রাখায় এটি এখন চূড়ান্ত।
তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। এটি বিএনপির ১৬-১৭ বছরের আন্দোলনের ফল। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে জনপরামর্শ (Public Consultation) ও গণভোটের (Referendum) মাধ্যমে চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য রায়টি পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। রায়ে উল্লেখিত ৫৪টি বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন করা হবে। এ ক্ষেত্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যাতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার আরও শক্তিশালী হয়।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য ধারার সংস্কারের বিষয়েও সরকার কাজ করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের মতামত ছাড়া কোনো আইন বা সংবিধান সংশোধন চাপিয়ে দেওয়া হবে না।
জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আইনমন্ত্রী জানান, মানবাধিকার কমিশন আইনসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়নের সময় যেভাবে অংশীজন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, কূটনীতিক, মানবাধিকার সংগঠন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের মতামত নেওয়া হয়েছে, একইভাবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও ব্যাপক জনপরামর্শ গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, সংশোধিত মানবাধিকার কমিশন আইন আগামী সংসদ অধিবেশনেই পাসের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
উল্লেখ্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত খারিজ করে দেন। এর ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।