![]()
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাকে হত্যার চেষ্টা করছে এবং তিনি দেশটির ‘এক নম্বর টার্গেট’। তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এমন এক সময়ে তিনি এ দাবি করলেন, যখন তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে।
ট্রাম্প বলেন, কয়েক মাস আগে শুরু হওয়া সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অধিকাংশই নিহত হয়েছে।
তিনি বলেন, “তাদের একদল নেতা ছিল, তারা নেই। এরপর আরেক দল এল, তারাও শেষ। এখন আরেক দল আছে, তারাও হয়তো থাকবে না। কে জানে? আর আমিও হয়তো থাকব না, কারণ আমি তাদের এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু।”
ইরানের নেতাদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, “আমি এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু, কারণ তারা অত্যন্ত নিকৃষ্ট প্রকৃতির। গত ৪৭ বছর ধরে তারা এভাবেই চলছে। তবে আমি দেশের জন্য যা সঠিক, সেটাই করছি।”
বর্তমান ইরানি নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য
ট্রাম্প বলেন, বর্তমান ইরানি নেতৃত্ব কিছুটা ‘পাগলাটে’ হলেও যুদ্ধবিরতি আলোচনার সময় তিনি ইরানি প্রতিনিধিদলে ‘চমৎকার কিছু মানুষ’ দেখেছেন।
তার ভাষায়, “ইরানের লেভেল ওয়ানের নেতারা শেষ। লেভেল টুও নেই। এখন লেভেল থ্রি চলছে। আমার ধারণা, বর্তমান নেতারা আগের তুলনায় কিছুটা বেশি বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন।”
তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, সেই ধারণা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হত্যাচেষ্টার আশঙ্কার পেছনের প্রেক্ষাপট
২০২০ সালে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ও তার সাবেক প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করছে ইরান—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্রাম্প নিজের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের পরিবর্তে ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিভ উইটকফের বিমান ব্যবহার করেছিলেন। সে সময় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ইরানি এজেন্টরা হামলার চেষ্টা করতে পারে।
এছাড়া চলতি বছরের মার্চে নিউইয়র্কের একটি আদালত আসিফ মার্চেন্ট নামে এক ব্যক্তিকে ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ এবং সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, তিনি স্বীকার করেছেন যে আইআরজিসির নির্দেশে এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।
‘প্রেসিডেন্ট হওয়া বিপজ্জনক পেশা’
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিজেই একটি “বিপজ্জনক পেশা”।
তবে তিনি জানান, ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে তিনি খুব বেশি চিন্তিত নন।
তার ভাষায়, “আমি সত্যিই পরোয়া করি না, কারণ আমি আমার কাজ করছি। আশা করি, আমি আগের যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে ভালো কাজ করছি।”
শেষে রসিকতার সুরে ট্রাম্প বলেন, “আমি টিকটকের তালিকার শীর্ষে থাকতে বেশি পছন্দ করি। কিন্তু এখন দেখছি, হত্যার তালিকারও এক নম্বরে আছি।”