![]()
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে সনাতনী ও শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বের করে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কৃষক নিবন্ধন, কৃষক ডাটাবেজ, ডিজিটাল কৃষিসেবা, মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়ার তথ্য, বাজারদর, কৃষি পরামর্শ, ই-সম্প্রসারণ সেবা এবং অনলাইন কৃষিসেবা প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে সারাদেশের প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে, যাতে সরকারি সেবা সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় কমানো, শ্রম সংকট মোকাবিলা এবং কৃষিকে আরও লাভজনক করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, কৃষিতে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ড্রোন, জিপিএস, স্যাটেলাইট তথ্য এবং বিগ ডাটা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, রোগবালাই শনাক্তকরণ, সুনির্দিষ্ট সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন পরিকল্পনা আরও কার্যকর হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যনির্ভর নিখুঁত কৃষি (Precision Agriculture) চালুর মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের জন্য ‘খামারি অ্যাপ্লিকেশন’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোন এলাকায় কোন সময়ে কোন ফসল চাষ উপযোগী, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন কৃষি পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে।
রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈবসার ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিকে জলবায়ু-স্মার্ট ও অভিযোজনক্ষম খাতে রূপান্তরের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কৃষি আরও উৎপাদনশীল, প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও টেকসই হবে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে একই দিনে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় রোধ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, চলমান প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় ৯০০টি আধুনিক সংরক্ষণ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি ঘরে ১০ থেকে ১২ টন পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ করা সম্ভব। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৯ হাজার কৃষকের মধ্যে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন একটি প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় আরও ৮ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন স্থাপন করা হবে। এর ফলে পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং কৃষকরা মৌসুম শেষে ন্যায্যমূল্যে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন।