![]()
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি ব্যয়ে বড় ধরনের কৃচ্ছ্রসাধনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। অর্থ বিভাগের জারি করা নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা আপাতত বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ ঋণে গাড়ি কেনা এবং সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণও স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ১০ বছরের বেশি পুরোনো যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় যানবাহন অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে কেনা যাবে। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা বাহিনীর যানবাহন ছাড়া নতুন বা প্রতিস্থাপিত সব জিপ ও কার অবশ্যই ফুল ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (এফইভি) হতে হবে। এছাড়া বিদেশি সরকার, উন্নয়ন সহযোগী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ, মাস্টার্স ও পিএইচডি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল থাকবে।
নতুন নির্দেশনায় পরিচালন বাজেট থেকে নতুন আবাসিক, অনাবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণ এবং ভূমি অধিগ্রহণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো নির্মাণকাজ ৭০ শতাংশ বা তার বেশি সম্পন্ন হলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে তা শেষ করা যাবে। উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণও পূর্বানুমোদন ছাড়া করা যাবে না। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের থোক বরাদ্দ ব্যয়েও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার বা ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করা। তবে পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু শর্ত শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।