• হোম > বাংলাদেশ > ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি ব্যয়ে লাগাম, গাড়ি কেনা ও বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত

২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি ব্যয়ে লাগাম, গাড়ি কেনা ও বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত

  • বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২০:০৫
  • ৫৪

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন: গাড়ি কেনা, বিদেশ সফর ও নতুন ভবন নির্মাণে কড়াকড়ি

সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারি ব্যয়ে নতুন কৃচ্ছ্রসাধনমূলক নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন পরিপত্র অনুযায়ী উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ, সুদমুক্ত বিশেষ ঋণে গাড়ি ক্রয় এবং নতুন ভবন নির্মাণেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

পরিপত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের অর্থ দিয়ে নতুন মোটরযান, জলযান কিংবা আকাশযান কেনা যাবে না। তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো সরকারি যানবাহন প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। এছাড়া নতুন প্রতিষ্ঠিত সরকারি সংস্থা প্রয়োজন হলে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে যানবাহন সংগ্রহ করতে পারবে।

সরকার পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে নতুন একটি শর্তও যুক্ত করেছে। অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া ভবিষ্যতে সরকারি ব্যবহারের জন্য কেনা বা প্রতিস্থাপন করা সব জিপ ও কার অবশ্যই ফুল ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (এফইভি) হতে হবে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের গাড়ি কেনার জন্য দেওয়া সুদমুক্ত বিশেষ ঋণ সুবিধাও আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণও সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে আয়োজিত প্রশিক্ষণ, স্কলারশিপ, ফেলোশিপ, মাস্টার্স ও পিএইচডি অধ্যয়নের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

এ ছাড়া প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মৌলিক ও আবশ্যিক প্রশিক্ষণের বৈদেশিক অংশ উপযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা যাবে। বিশেষ প্রযুক্তিগত পণ্যের প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন (পিএসআই) বা ফ্যাক্টরি অ্যাক্সেপটেন্স টেস্ট (এফএটি) প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তার বিদেশ সফর বিবেচনা করা হবে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরীক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, পরিচালন বাজেটের আওতায় নতুন আবাসিক, অনাবাসিক কিংবা অন্যান্য সরকারি ভবন নির্মাণ করা যাবে না। তবে যেসব নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে শেষ করা যাবে।

একই সঙ্গে পরিচালন বাজেট থেকে ভূমি অধিগ্রহণে কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। তবে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ভূমি অধিগ্রহণ করা যাবে।

অর্থ বিভাগ আরও জানিয়েছে, পরিচালন বাজেটের থোক বরাদ্দের অর্থ ব্যয় করা যাবে না। পরিকল্পনা কমিশনের আওতায় সংরক্ষিত ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের অর্থও অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি সরকারি ব্যয়ে ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল ও টেকসই ভিত্তির ওপর পরিচালনা করা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13413 ,   Print Date & Time: Wednesday, 7 October 2026, 03:10:15 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh