![]()
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে ৩-২ গোলে হারের পর বড় ধরনের বিতর্কে জড়িয়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দিকে থুতু ছিটানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে এখন ফিফার শাস্তির মুখে পড়তে পারেন এই মিশরীয় কোচ।
ম্যাচে একসময় ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল দলটি। তবে শেষ ১৪ মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজর গোলে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচজুড়েই রেফারিং নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল মিশর। তাদের দুটি পেনাল্টির আবেদন নাকচ হওয়ার পর ডাগআউটে উত্তেজিত আচরণের জন্য হলুদ কার্ডও দেখেন হোসাম হাসান। ম্যাচ শেষে টানেল দিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার সময় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গ্যালারি থেকে ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শনের পর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া জানান হোসাম হাসান। এরপর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দিকে থুতু ছিটাতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, কারও দিকে থুতু ছিটানো গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ধরনের আচরণকে শারীরিক আক্রমণের পর্যায়ে ধরা হয় এবং এর জন্য কমপক্ষে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বা নির্দিষ্ট মেয়াদের শাস্তি হতে পারে।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোসাম হাসান বলেন, তিনি রাজনৈতিক বিতর্কে যেতে চান না। তার ভাষায়, “আমরা একটি মানবিক বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম। যে মানুষটি তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে কিংবা যার হাত কেটে ফেলা হয়েছে, তাদের কষ্ট কি কেউ অনুভব করে? আমরা চাই ফুটবল মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করুক।”
তবে ভিডিওটির সত্যতা ও ঘটনাটি নিয়ে ফিফা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।