![]()
বিশ্বকাপে মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়া আর্জেন্টাইন অধিনায়ক জানান, তার চোখের জলের পেছনে ছিল একসঙ্গে স্বস্তি ও পেনাল্টি মিসের হতাশা। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে জয় তুলে নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। এরপর ২১ মিনিটে নিকোলাস তালিয়াফিকোকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় স্কালোনির দল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। তার নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।
দ্বিতীয়ার্ধে মুস্তাফা জিকোর গোলে ব্যবধান ২-০ হলে বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবে হাল ছাড়েনি আকাশী-সাদারা। ৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমানোর পর ৮৩ মিনিটে সমতা ফেরান মেসি। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে মেসি বলেন, ‘আমরা আবারও অনেক কষ্ট করেছি। তবে এটাই বিশ্বকাপ, এখানে প্রতিটি ম্যাচই খুব কঠিন। তাই এই জয় আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তি।’
ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনের সময় কান্নায় ভেঙে পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবার জন্যই এটা ছিল একধরনের স্বস্তি। ২-০ থেকে ফিরে আসা সহজ নয়। কিন্তু এই দল কখনো হাল ছাড়ে না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
পেনাল্টি মিসের হতাশাও লুকাননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করায় আমি সত্যিই হতাশ ছিলাম। যদি সেই সময় গোল করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের চিত্রই ভিন্ন হতে পারত।’
মেসি আরও বলেন, ‘আমাদের বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ ছিল, কিন্তু তাদের গোলরক্ষক অসাধারণ কিছু সেভ করেছে। এরপরও আমরা ফিরে এসেছি। দলের ভেতরে যা ঘটেছে, তার পর এই জয় বিশেষ কিছু।’
এই ম্যাচে গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আটে উন্নীত করেছেন মেসি। ফলে গোলদাতার তালিকায় তিনি কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে আছেন। ছয়টি বিশ্বকাপে ৩১ ম্যাচে মেসির মোট গোল এখন ২১টি।
মিশরের বিপক্ষে স্মরণীয় এই জয় আর্জেন্টিনাকে তুলে দিয়েছে বিশ্বকাপের শেষ আটে। কোয়ার্টার ফাইনালে লিওনেল স্কালোনির দলের প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড।