• হোম > বাংলাদেশ > তিস্তা মহাপরিকল্পনায় ১১০ কিমি নদীশাসন, ১৭০ বর্গকিমি ভূমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় ১১০ কিমি নদীশাসন, ১৭০ বর্গকিমি ভূমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা

  • মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ১৮:৪৫
  • ৪১

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

তিস্তা নদীকেন্দ্রিক সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীশাসন, ১১০ কিলোমিটার ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজীর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার জন্য তিস্তা নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে উজানে বিভিন্ন বাঁধ নির্মাণ এবং পানিপ্রবাহের সীমাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে উজানে অতিবৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দেয়, যা প্রতিবছর হাজারো মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি জানান, তিস্তা অববাহিকার রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলায় নদীভাঙন প্রতিরোধে ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২২২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪২ দশমিক ১৭ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিচালিত সমীক্ষায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ (নদীশাসন), ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন ও স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি জানান, সমীক্ষার কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ এবং সেচ সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, ফসলের বহুমুখীকরণ সম্ভব হবে এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

এছাড়া নদীতীরবর্তী এলাকায় রাস্তা, সেতু ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস, নৌযোগাযোগের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেও সমীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13298 ,   Print Date & Time: Friday, 25 September 2026, 01:25:29 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh