• হোম > বাংলাদেশ > তিস্তা বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে, ১২ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

তিস্তা বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে, ১২ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

  • মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ১৭:১৭
  • ৫৩

 

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এর ফলে অন্তত ১২ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের কোনো প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি পরিমাপ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৮৬টিতে কমেছে এবং তিনটিতে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগসহ ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে উজানের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু এবং মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ কিংবা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে। এছাড়া নারায়ণহাট, টেকনাফ, কক্সবাজার, রামগড়, বান্দরবান, মহেশখোলা, লামা এবং পরশুরামেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী তিন দিন কমে যাওয়ার পর আবার বৃদ্ধি পেতে পারে। গঙ্গার পানি কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকার পর বাড়তে পারে এবং পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সামগ্রিকভাবে বিপৎসীমার নিচেই থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13272 ,   Print Date & Time: Thursday, 24 September 2026, 07:11:41 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh