• হোম > অর্থনীতি > সিটি গ্রুপ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকেও প্রভাব পড়বে: মুখপাত্র

সিটি গ্রুপ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকেও প্রভাব পড়বে: মুখপাত্র

  • মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫২
  • ৫৯

সিটি গ্রুপ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকেও প্রভাব পড়বে: মুখপাত্র

প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের চাপে থাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, সিটি গ্রুপ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু প্রতিষ্ঠানটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ব্যাংকিং খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে। তাই দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগোষ্ঠীর কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে রোববারও তিনি জানিয়েছিলেন, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে বড় শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

দীর্ঘদিন ধরে তেল, আটা, ময়দা, সুজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করে আসছে সিটি গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। তবে উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সিটি গ্রুপের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে ঋণ পুনর্গঠন, ব্যাংকঋণ ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সহায়তা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় ঋণদাতা ব্যাংকগুলোও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘অনেক সময় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এমন জটিল সমস্যায় পড়ে, যা সরাসরি সমাধান করা সম্ভব হয় না। তবে বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা দূর করে আমরা তাদের কার্যক্রম সচল রাখতে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, দেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাতের বড় অঙ্কের ঋণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম জড়িত। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান সাময়িক সংকটে পড়লেও তার প্রভাব যেন পুরো অর্থনীতিতে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সহায়তার আওতায় ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয়, ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সুবিধা এবং উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নয়। বরং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়লেও তাদের উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13267 ,   Print Date & Time: Thursday, 24 September 2026, 07:19:35 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh