![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশস্থলে ঘটে যাওয়া বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক মন্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এ ধরনের ঘটনায় সরকারের মূল দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, দায়ীদের শনাক্ত করা এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সাভারের বিস্ফোরণের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সরকার এর নিন্দা জানায়। তিনি বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা, জড়িতদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক নেতারা রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারেন এবং সেটি তাদের অধিকার। তবে গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একজন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল মন্তব্য প্রত্যাশা করেন তিনি।
বিস্ফোরণের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কাউকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি তদন্তের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় না। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, একটি রাষ্ট্র বা সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করলেও কখনো কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকার ঘটনাটিকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে এবং কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বর্তমান সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে।
এর আগে সাভারের সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের ঘটনা পুলিশের ব্যর্থতার ইঙ্গিত বহন করে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বিস্ফোরণের সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর পুলিশের কার্যকর উপস্থিতি দেখা যায়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেও বিলম্ব হয়েছে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত হবে না।