• হোম > বিদেশ | মধ্যপ্রাচ্য > খামেনির শোকযাত্রায় দেখা মিলল ‘নিহত’ আহমাদিনেজাদের

খামেনির শোকযাত্রায় দেখা মিলল ‘নিহত’ আহমাদিনেজাদের

  • মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ১৪:৫২
  • ৫৩

খামেনির শোকযাত্রায় দেখা মিলল ‘নিহত’ আহমাদিনেজাদের

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রায় দীর্ঘদিন পর জনসমক্ষে দেখা গেছে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে। সোমবার রাজধানী তেহরানে কালো জ্যাকেট ও মুখে মাস্ক পরে শোকাহত মানুষের ঢলের মধ্যে তাকে হাঁটতে দেখা যায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই নিহত হন। ওই সময় দেশটির রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ কয়েকটি গণমাধ্যমে ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা আহমাদিনেজাদও নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

তখন দাবি করা হয়েছিল, তার বাসভবনের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। সরকারিভাবেও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে যুদ্ধের শুরুর দিকের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তাকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়।

খামেনির শোকযাত্রায় জীবিত সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানির অনুপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, তাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আহমাদিনেজাদের উপস্থিতি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রায় ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের অনেকেই অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য।

তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবারও জনসমক্ষে আসেননি। বাবার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

রোববার অনুষ্ঠিত জানাজার নামাজে সামনের সারিতে ছিলেন খামেনির তিন ছেলে—মোস্তাফা, মাসউদ ও মেইসাম। বাবার মৃত্যুর পর এই প্রথম তারা জনসমক্ষে উপস্থিত হন। এ সময় তাদের আবেগাপ্লুত ও অশ্রুসিক্ত দেখা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ভিডিওতে রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রজুড়ে মানুষের ঢল দেখা যায়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, জানাজা ও শোকযাত্রায় প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।

শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ‘আমার শহীদ নেতা, আপনার পথচলা অব্যাহত থাকবে’ এবং ‘আমার শহীদ পিতা, আপনার পথচলা অব্যাহত থাকবে’—এমন নানা স্লোগান।

খামেনির কফিন ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল। একই ট্রাকে রাখা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত তার পরিবারের সদস্যদের কফিনও।

শনিবার শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে। এরপর তার মরদেহ জন্মস্থান মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে। এর আগে ইরানের কোম এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় পৃথক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13255 ,   Print Date & Time: Friday, 25 September 2026, 12:45:08 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh