• হোম > বিদেশ | মধ্যপ্রাচ্য > তেহরান থেকে কোমে নেওয়া হলো খামেনির মরদেহ

তেহরান থেকে কোমে নেওয়া হলো খামেনির মরদেহ

  • মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৬
  • ৪৩

তেহরান থেকে কোমে নেওয়া হলো খামেনির মরদেহ

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ পবিত্র নগরী কোমে নেওয়া হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) সেখানে তার জানাজা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, খামেনির মরদেহ বহনকারী একটি হেলিকপ্টার রাজধানী তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরে অবতরণ করছে। এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

এর আগে, সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজধানী তেহরানের রাজপথে নেমে আসেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ বহনকারী শোকযাত্রা ধীরে ধীরে আজাদি স্কয়ারের দিকে অগ্রসর হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত দৃশ্যে তেহরানের প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের ঢল দেখা যায়। সরকারি গণমাধ্যমের দাবি, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর এটিই ছিল অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম।

কালো পোশাক পরিহিত শোকাহত মানুষ কফিনের ওপর ফুল ছিটিয়ে শ্রদ্ধা জানান। মরদেহগুলোর মধ্যে খামেনির পরিবারের সদস্যদের কফিনও ছিল।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হামিদ নামের এক ব্যক্তি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে বিভক্ত করা। তবে তাদের মতে, দেশের নেতৃত্ব সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করেছে। তিনি বলেন, দেশ ও নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই মানুষ আজ রাজপথে নেমেছে।

মারজিয়া নামে আরেক শোকাহত নারী বলেন, প্রায় চার দশক ধরে ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি এসেছেন। তার ভাষায়, এই উপস্থিতির মাধ্যমে তারা প্রয়াত নেতার প্রতি নিজেদের আনুগত্য ও সম্মান পুনর্ব্যক্ত করতে চান।

খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ ইসলামির মতে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই মোজতবা খামেনি বাবার জানাজায় প্রকাশ্যে অংশ নেননি।

তিনি বলেন, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল পক্ষের মধ্যে বর্তমানে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি ও জটিল কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। এ অবস্থায় মোজতবা খামেনির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয়।

কোমে জানাজা শেষে খামেনির মরদেহ ইরাকের শিয়া মুসলিমদের দুটি পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। এরপর আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13239 ,   Print Date & Time: Saturday, 26 September 2026, 09:08:00 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh