• হোম > বাংলাদেশ > ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান

‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান

  • মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০৮
  • ৫৬

‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে-কেয়ার সেন্টার) কেবল শিশুদের নিরাপদে রাখার স্থান নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তিনি বলেন, মানসম্মত দিবাযত্ন কেন্দ্রের অভাবে কর্মজীবী মা ও তাদের সন্তানদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর পানি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘শিশুর প্রাথমিক পরিচর্যা ও বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান তেজগাঁও সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), ভূমি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং পানি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ নারী এবং ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ মানুষের বয়স শূন্য থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। এই বাস্তবতায় কর্মজীবী পরিবারের জন্য মানসম্মত দিবাযত্ন কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।

নিজের স্কুলজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ১২৩টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে ৭ হাজার ৩৬০ জন শিশুকে সেবা দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের মোট শিশুর মাত্র শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশের চাহিদা পূরণ করছে।

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত দিবাযত্ন কেন্দ্র না থাকায় অনেক শিশু প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম, সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা এবং সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, মানসম্মত ও সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং শৈশবকালীন বিকাশ শিশুদের জ্ঞানীয়, সামাজিক ও মানসিক বিকাশের শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।

দিবাযত্ন কেন্দ্রের পরিচর্যাকারীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাদের নিষ্ঠা ও মানবিক দায়িত্ব পালনের ফলে অসংখ্য কর্মজীবী মা নিশ্চিন্তে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।

তিনি আরও বলেন, শৈশবই মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়েই সততা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহনশীলতা, কৌতূহল, অধ্যবসায় ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মতো মূল্যবোধের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দিবাযত্ন কেন্দ্র চালুর যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ ও নারী-শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেন, দিবাযত্ন কেন্দ্র শুধু কর্মজীবী মায়ের জন্য নয়, প্রতিটি কর্মজীবী পরিবারের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাস থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে এ উদ্যোগের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, একদিনে সারা দেশে শতাধিক দিবাযত্ন কেন্দ্র চালু করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রশিক্ষিত জনবল, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং ইতিবাচক সামাজিক মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি।

ডা. জাহিদ আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অদূর ভবিষ্যতে সারা দেশে দিবাযত্ন কেন্দ্রের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে মাত্র ছয়টি দিবাযত্ন কেন্দ্র দিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, যা বর্তমানে আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13223 ,   Print Date & Time: Monday, 28 September 2026, 05:50:16 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh