• হোম > বাংলাদেশ > সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল দেবে ইসি, অক্টোবর লক্ষ্য ধরে প্রস্তুতি

সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল দেবে ইসি, অক্টোবর লক্ষ্য ধরে প্রস্তুতি

  • মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০৪
  • ৫৯

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি চালিয়ে গেলেও নির্বাচনের চূড়ান্ত সময় এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

সোমবার (৬ জুলাই) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) আয়োজিত ফল উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সীমানা নির্ধারণ, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। তাই বাস্তবতা ও আইনি প্রয়োজনের কারণে সরকারের সঙ্গে লিখিত ও অনানুষ্ঠানিক সমন্বয়ের ভিত্তিতেই নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “আমরা অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে এর অর্থ এই নয় যে নির্বাচন অক্টোবরে হবেই। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এখনই নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করা যৌক্তিক হবে না।”

নির্বাচন কমিশনার জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনি কাঠামোর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওয়ার্ড সংখ্যা, সীমানা পুনর্বিন্যাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

তিনি বলেন, এ কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিতে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন। সীমানা-সংক্রান্ত যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশন শিগগিরই সরকারকে চিঠি দেবে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদের মতে, আইনগত ও বাস্তবতার দিক থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হওয়া বেশি যৌক্তিক। তবে এর অর্থ এই নয় যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন কমিশনের বিবেচনার বাইরে রয়েছে। বর্তমানে প্রশাসকের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন পরিচালিত হলেও কমিশন এ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিও অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, “সব নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন সম্ভব নয়। কোন নির্বাচন আগে হলে জনগণ বেশি উপকৃত হবে এবং কোথায় জনপ্রতিনিধির অভাবে মানুষের ভোগান্তি বেশি—এসব বিষয় বিবেচনা করেই সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে কয়েক লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা জড়িত। তাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় দরকার।

তিনি জানান, যদি অক্টোবরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী অন্তত ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে এবং কমিশন সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অপর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কমিশন ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রাক-প্রস্তুতি শুরু করেছে।

তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণবিধির খসড়া কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন পক্ষের মতামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে সীমানা নির্ধারণের বিষয়েও সমন্বয় চলছে, যাতে দ্রুত এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়।

সানাউল্লাহ আরও বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর এবং এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

আরএফইডির সভাপতি কাজী ইমাদ উদ্দিন জেবেলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ দৌলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল) এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আরএফইডির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13221 ,   Print Date & Time: Monday, 28 September 2026, 06:51:43 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh