যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ‘যুক্তরাষ্ট্রই ইসরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’ মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারতসহ আরও কয়েকটি দেশও ইসরায়েলকে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দিয়ে থাকে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “আমাদের আরও কিছু বন্ধু আছে। যেমন ভারত—বিশাল জনসংখ্যার একটি দেশ, যেখানে আমরা অসাধারণ সমর্থন পাই।”
লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো হলেও সব বিষয়ে তাদের মতের মিল নেই। তিনি বলেন, “তার সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। তবে তার সব বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত নই।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে—এমন ধারণাও উড়িয়ে দেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। ট্রাম্পকে তিনি “হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের পাওয়া সবচেয়ে বড় বন্ধু” বলে অভিহিত করেন।
এর আগে জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত শান্তি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, কয়েক মাসের সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংলাপের ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যেই এ চুক্তি করা হয়েছে।
তিনি ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন। ভ্যান্সের দাবি, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থে সরবরাহ করা হয়েছে।
ভ্যান্স বলেন, “ইসরায়েলের সমস্যা ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প নন। যদি কেউ মনে করেন, তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, তাহলে তাদের বর্তমান বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত।”
লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলারও সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, এসব হামলা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি বলেন, “ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে তাদেরও এমন শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্মান করতে হবে, যা শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলসহ পুরো অঞ্চলের জন্যই ইতিবাচক।”
ভ্যান্স আরও বলেন, কূটনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে সহিংসতা শুরু হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হতাশ হয়েছেন। তার ভাষায়, “আমরা যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলাম, তখনই বৈরুতের একটি বেসামরিক এলাকায় বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন অনেক মানুষ প্রাণ হারান। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তি চুক্তির শর্ত উভয় পক্ষকেই মেনে চলতে হবে।
অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতির পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তার দাবি, ওই অঞ্চলের খ্রিষ্টান অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রাম ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, কারণ ইসরায়েল তাদের হিজবুল্লাহর হামলা থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে।
নেতানিয়াহু বলেন, “আপনি যদি শান্তি চান, তাহলে যারা আপনাকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করার সক্ষমতাও থাকতে হবে।”