![]()
ব্রাজিলের বিপক্ষে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র দুটি, আর দুটিই করেছেন গোলে। এমন দুর্দান্ত নৈপুণ্যে Erling Haaland-এর জোড়া গোলে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো Norway national football team বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
ম্যাচ শেষে নিজের গোল করার সহজাত ক্ষমতা নিয়ে হালান্ড বলেন,
‘সাধারণত এমনই হয়। আমি যদি একটি বা দুটি সুযোগ পাই, সেগুলো গোলে পরিণত হয়। কীভাবে করি, সেটা আমি নিজেও ঠিক জানি না। তবে সবকিছুর মূল হলো মনোযোগ ধরে রাখা। সুযোগ এলে সেটাকে কাজে লাগাতেই হয়।’
এই জয়ের মাধ্যমে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে। এর আগে বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল শেষ ষোলো পর্যন্ত ওঠা। এরপর টানা ছয়টি বিশ্বকাপ মিস করার পর ২৮ বছর পর ফিরে এবার সরাসরি শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি।
এই অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরে হালান্ড বলেন,
‘আমার মনে হয়, নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে পাগলাটে এবং অবিশ্বাস্য রাতগুলোর একটি। আমি আশা করি, এই জয় আমাদের ফুটবলে অনেক পরিবর্তনের সূচনা করবে।’
ব্রাজিলের ফুটবল সংস্কৃতিরও প্রশংসা করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা।
তার ভাষায়,
‘আমরা ব্রাজিলের কাছ থেকে শিখতে পারি। হয়তো তাদের মতো হুবহু নয়, কিন্তু দেশের হয়ে খেলার যে গর্ব তারা অনুভব করে, সেটি আমাদের মধ্যেও থাকা উচিত। নরওয়ের প্রতিটি শিশুর স্বপ্ন হওয়া উচিত জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।’
দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন,
‘আমরা ভয়ডর ভুলে বুক চিতিয়ে খেলেছি এবং মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। যারা এই সাক্ষাৎকার দেখছ, আশা করি বড় হয়ে তোমরাও নরওয়ের হয়ে খেলতে চাইবে এবং এটিকে জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব হিসেবে দেখবে। এই মুহূর্ত সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
বিশ্বকাপে নরওয়ের প্রতিটি জয়ের পরই সমর্থকদের ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং’ উদযাপন চোখে পড়েছে। ব্রাজিলকে হারানোর পরও গ্যালারিতে দীর্ঘ সময় ধরে সমর্থকদের সঙ্গে গান গেয়েছেন হালান্ড, Martin Ødegaard ও তার সতীর্থরা।
তবে দেশের মানুষের সঙ্গে সরাসরি উদযাপন করতে না পারার আক্ষেপও প্রকাশ করেন হালান্ড।
তিনি বলেন,
‘ইশ, যদি এখন দেশের রাস্তায় সমর্থকদের সঙ্গে থাকতে পারতাম! আমিও যদি সেই আনন্দে শামিল হতে পারতাম। সবাইকে বলব, এই মুহূর্তটা প্রাণভরে উপভোগ করুন। পুরো নরওয়েরই এখন উদযাপন করার সময়। আমার বিশ্বাস, এটি আমাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দিন।’