• হোম > বাংলাদেশ > নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ০০:২০
  • ৭০

নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সরকারপ্রধান যেন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়েন, সেদিকেও বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই সরকারপ্রধানের সবচেয়ে বড় শক্তি।

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপরই আস্থা রাখতে চাই। তাই নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়া হয়। জনগণ যেন কখনো নিজেদের সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন—সেদিকে আপনাদের বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্বারোপ

পিজিআরের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যরাই এ বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পেশাদারিত্ব, আনুগত্য ও শৃঙ্খলার সমন্বয়ে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই বাহিনীর দক্ষতা ও একনিষ্ঠতার পরিচয় তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, ‘পিজিআর সেনাবাহিনীরই একটি বিশেষায়িত ইউনিট। আপনাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলার প্রতিফলন ঘটবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।’

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে বিশ্বস্ততার প্রশংসা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) এবং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব। নানা ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেও পিজিআর সদস্যরা বিশ্বস্ততা, কর্তব্যপরায়ণতা ও শৃঙ্খলার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তিনি জানান, এই ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর পিজিআর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ সম্মাননার জন্য মনোনীত হয়েছে।

‘এটি শুধু পিজিআরের জন্য নয়, পুরো সশস্ত্র বাহিনীর জন্যই গর্বের বিষয়। এই অর্জনের জন্য আমি বাহিনীর সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই,’ বলেন তিনি।

নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতির আহ্বান

বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি এখন সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন হামলা এবং তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু পিজিআর নয়, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি ইউনিটকে আধুনিক প্রযুক্তি ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে হবে।’

সরকার পিজিআর, এসএসএফসহ বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।

সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকায় আস্থা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী দেশের সাহস, গৌরব ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাহিনীর ভূমিকা জাতির ইতিহাসের সঙ্গে চিরদিনের জন্য যুক্ত হয়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, দেশপ্রেম, কঠোর শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কখনোই হুমকির মুখে পড়বে না।’

জিয়াউর রহমান ও শহীদ পিজিআর সদস্যদের স্মরণ

বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে বাহিনীটির যাত্রা শুরু হয়। পরে একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এর নাম পরিবর্তন করে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)’ রাখেন, যা বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করে।

তিনি ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শহীদ হওয়া পাঁচজন পিজিআর সদস্যকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তায় জীবন উৎসর্গ করে তারা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পিজিআর সদস্যদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।’

কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ ও শহীদ পরিবারের খোঁজখবর

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন এবং সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

এ সময় তিনি চট্টগ্রামে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছর ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই বিশেষায়িত ইউনিট রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা, প্রটোকল ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সামরিক দায়িত্ব পালন করে থাকে। ঢাকা সেনানিবাসে বার্ষিক দরবার, কুচকাওয়াজ এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13175 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 08:05:35 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh