![]()
আগামী ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শনিবার (৪ জুলাই) রংপুর বিভাগের সমাজসেবা কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পেতে সাধারণ মানুষকে কোনো সরকারি দপ্তরে ঘুরতে হবে না। বরং সরকার নিজ উদ্যোগে যোগ্য পরিবারগুলো চিহ্নিত করে তাদের হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
তিনি বলেন, ‘সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। আমরা চাই, জনগণ সরকারের ওপর আস্থা রাখুক।’
ড. জাহিদ হোসেন জানান, কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। পরে সেই তথ্য কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে। উপকারভোগী নির্বাচন যাতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়, সে জন্য বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি পরিবার একটি করে ফ্যামিলি কার্ড পাবে। তবে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে ‘প্রক্সি মিন্স টেস্ট’ ভিত্তিক স্কোরিং পদ্ধতির মাধ্যমে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য পরিচালিত প্রায় ১ হাজার ৭০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান সরকারি মানদণ্ড পূরণ করেছে বা পূরণের কাছাকাছি রয়েছে, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে অনুমোদনের আওতায় আনা হবে। সরকারের লক্ষ্য, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তত একটি করে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা।
মন্ত্রী জানান, বিশেষ করে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজনির্ভর শিক্ষার্থীদের জন্য দক্ষ শিক্ষকের অভাব বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ দেশে বিশেষ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য মাত্র একটি কলেজ রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সরকার ধাপে ধাপে এই সংকট দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে। একযোগে সব বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব না হলেও প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় অন্তত একটি অনুমোদিত ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
এর আগে রংপুর ও লালমনিরহাট সফরের অংশ হিসেবে মন্ত্রী ধাপ কেল্লাবন্দ হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং, সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয় পরিদর্শন করেন।