![]()
বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার দেশের সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর না করে সমাজের সব স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার লালমনিরহাট শহরের এম টি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে ‘আলোকিত লালমনিরহাট, আমাদের অঙ্গীকার’ শীর্ষক নবজাগরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মাদকের আগ্রাসনে আমাদের সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। এই সংকট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবাইকে একসঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।’
তিনি বলেন, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকে প্রাণও দিয়েছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকূলতাই তাদের আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে পারেনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই আন্দোলন সফল হয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব পরিকল্পিতভাবে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি জানান, খুব শিগগিরই জেলার প্রতিটি এলাকায় মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। প্রথমে তাদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপরও যারা সংশোধিত হবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘মাদকের কারণে যুবসমাজ ধ্বংস হলে একটি জাতির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সময়ের দাবি।’
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো মেয়ের বিয়ে নিবন্ধন করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর সভাপতি মুহা. রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রায় ৩ হাজার ১০০ স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। পরে এম টি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।