• হোম > এশিয়া | বিদেশ > মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগে জাপানে তেল রপ্তানির পরিকল্পনা ইরানের

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগে জাপানে তেল রপ্তানির পরিকল্পনা ইরানের

  • শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:১২
  • ৭১

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগে জাপানে তেল রপ্তানির পরিকল্পনা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবারও জাপানে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাপানের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সম্ভাব্য জাপানি ক্রেতারা চুক্তিতে এগোনোর আগে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা চাইছেন। ইরানি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত ২২ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ৬০ দিনের শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেল কেনাবেচায় একটি বিশেষ ছাড় (ওয়েভার) দেয়, যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২১ আগস্ট। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের অন্তত তিনটি কোম্পানি ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করছে। ২০১৯ সালের পর জাপান আর সরাসরি ইরান থেকে তেল আমদানি করেনি। ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত এবং ইউরোপের দেশগুলো ইরানি তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে মূলত চীনই ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা হিসেবে রয়েছে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, জাপানে তেল পাঠাতে দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে বর্তমান ছাড়ের মেয়াদ আরও বাড়াতে হবে, যাতে চালান নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, ইরানের খার্গ দ্বীপ থেকে তেল বোঝাই করে জাপানি ট্যাংকারের মাধ্যমে চালান পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি এনআইওসি তাদের পুরোনো ক্রেতাদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছে, শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হলে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে তারা যেন পুনরায় ইরানি তেল আমদানি শুরু করে। তবে এ বিষয়ে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে সম্ভাব্য এই বাণিজ্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ট্যাংকারের বিমা সুবিধা। গত সপ্তাহে ইরানি বাহিনী ওই প্রণালিতে একটি কনটেইনার জাহাজে হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে, এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজকে তাদের অনুমতি নিতে হবে। জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে এখনও প্রায় ৮০টি ভাসমান মাইন রয়েছে, যা নৌ চলাচলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

জাপানের একটি বড় তেল শোধনাগারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ট্যাংকারের জন্য পর্যাপ্ত বিমা সুবিধা নিশ্চিত করা। নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অনিশ্চয়তা দূর না হলে ইরানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13059 ,   Print Date & Time: Tuesday, 6 October 2026, 03:06:09 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh