![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তার মরদেহে শ্রদ্ধা জানাতে দেশি-বিদেশি অতিথি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হচ্ছেন।
শুক্রবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অন্যান্য নিহতদের মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নেওয়া হয়। সেখানে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দুই দিনের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই সময়ে লাখো মানুষ তাদের প্রিয় নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শ্রদ্ধা নিবেদনকারী প্রথম বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। এছাড়া ইরানের স্বীকৃত বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাবেক নেতার প্রতি সম্মান জানান।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া, কিউবাসহ ৩০টিরও বেশি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি তেহরানে পৌঁছেছেন। প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধি এই রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত পারিবারিক বিদায় অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহতদের পরিবার, আয়াতুল্লাহ খামেনির স্বজন এবং তার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আবেগঘন পরিবেশে তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়।
ইরানি প্রশাসনের ধারণা, দাফন অনুষ্ঠানে এক থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমে পরিণত হতে পারে। এ উপলক্ষে রাজধানী তেহরানজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। এরপর থেকেই পুরো দেশজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে শেষ বিদায়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।