• হোম > বিদেশ > ইসরায়েলের গোপন পরিকল্পনা! শান্তি আলোচনার মাঝেই ইরানি শীর্ষ নেতাদের হত্যার ছক

ইসরায়েলের গোপন পরিকল্পনা! শান্তি আলোচনার মাঝেই ইরানি শীর্ষ নেতাদের হত্যার ছক

  • শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৯:০৭
  • ৭১

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলাকালেই ইরানের শীর্ষ দুই রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল। বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। তাদের মতে, ইসরায়েলের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের মাধ্যমে তেহরানকে সতর্কবার্তাও পাঠিয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার পর এই দুই নেতার নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে দুর্বল করা এবং কট্টরপন্থী সরকারকে চাপে ফেলা। সে সময় আরাগচি কিংবা গালিবাফকে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার পর তাদের হত্যা করলে কূটনৈতিক উদ্যোগ পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক লক্ষ্য অনেকটাই এক হলেও পরে দুই দেশের কৌশলে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে সংঘাতের অবসান ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চেয়েছিল, সেখানে ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর চাপ বজায় রাখার নীতিতে অটল ছিল।

মার্কিন সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের মাধ্যমে ইরানকে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিল, যাতে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট না হয়।

এদিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে তারা ইরানের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে ইরানের শীর্ষ আলোচকদের ওপর হামলার বিষয়ে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলের দৃষ্টিতে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ছিল সাময়িক এবং কৌশলগতভাবে অপর্যাপ্ত। ইসরায়েলি বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির ফলে ইরানের সরকার দুর্বল হওয়ার পরিবর্তে আরও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী সময়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানো এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পথ সুগম করা। তবে এই উদ্যোগকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলের একটি অংশ সমালোচনার চোখে দেখছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়ার সময় গালিবাফের সফর নিয়েও বড় ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সে সময় পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমানকে নিরাপত্তা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। ফেরার পথে সম্ভাব্য ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের উপস্থিতির তথ্য পাওয়ার পর গালিবাফকে বহনকারী বিমান জরুরি অবতরণ করে এবং প্রতিনিধিদল পরে সড়কপথে তেহরানে ফিরে যায়।

তবে ইরানি নেতাদের লক্ষ্য করে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়েও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13015 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 07:49:05 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh