• হোম > বাংলাদেশ > ৩,৪৩৩ কোটি টাকার বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রকল্প আবারও পিছাল, শেষ হতে লাগবে আরও দুই বছর

৩,৪৩৩ কোটি টাকার বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রকল্প আবারও পিছাল, শেষ হতে লাগবে আরও দুই বছর

  • শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৯:০৪
  • ১৬৯

 

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের আট বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত ক্যানসার, কিডনি ও কার্ডিয়াক হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। ভবন নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ৩ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৮১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। তবে আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

২০১৯ সালে প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন দেওয়া হয় ২ হাজার ৩৮৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে। পরে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী ব্যয় বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা করা হয়। এখন পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আটটি হাসপাতালের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণ অগ্রগতি সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ। অন্যদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাজ সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে, যেখানে অগ্রগতি মাত্র ৫৩ শতাংশ।

প্রকল্পটি প্রথমে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। সর্বশেষ দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এখনো শুরু হয়নি চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার কাজ

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, কম্পিউটার ও যানবাহন ক্রয়ের কাজ এখনো শুরু হয়নি। এতে প্রকল্পের ভবন নির্মাণ শেষ হলেও হাসপাতালগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে বিলম্ব হলে হাসপাতালগুলো সময়মতো কার্যক্রম শুরু করা কঠিন হয়ে পড়বে।

ব্যয়বহুল নির্মাণসামগ্রী নিয়ে প্রশ্ন

সরেজমিন পরিদর্শনের সময় আইএমইডি নির্মাণকাজের মান মোটামুটি সন্তোষজনক পেলেও কিছু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনে ব্যয়বহুল গ্রানাইট পাথর, অলংকারধর্মী ফলস ওয়াল এবং বাইরের দেয়ালে ফলস ব্রিক টাইলস ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর মান, কিউরিং, গ্রেডেশন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণে কিছু কারিগরি দুর্বলতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আইএমইডি সুপারিশ করেছে, চিকিৎসা সরঞ্জামের তালিকা ও ব্যয়ের প্রাক্কলন দ্রুত চূড়ান্ত করে অগ্রিম দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত, যাতে সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে কার্যাদেশ দেওয়া সম্ভব হয়।

সমন্বয়হীনতায় পিছিয়েছে প্রকল্প

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু বৈশ্বিক পরিস্থিতিই নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি, বারবার প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব, নকশাগত জটিলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি।

চালু হলে কমবে ঢাকার হাসপাতালের চাপ

আইএমইডির মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিভাগীয় পর্যায়েই ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে। এতে রাজধানীর বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমবে এবং বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা ও বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ও হ্রাস পাবে।

প্রকল্পের আওতায় বছরে প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার রোগীকে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক মোস্তফা আজিজ সুমন বলেন, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ ক্যানসার রোগীর চাপ রাজধানীর হাসপাতালগুলোকে সামলাতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত বেড ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে রোগীদের চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

তিনি বলেন, আট বিভাগে হাসপাতালগুলো দ্রুত নির্মাণ শেষ করে প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামসহ চালু করা গেলে রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে বিভাগীয় শহরেই চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয়ও কমে আসবে।

আইএমইডি হাসপাতাল চালুর আগেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের পদ সৃষ্টি, সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন, চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/13013 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 06:46:06 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh