ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে জয় পেলেও ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুন। গোল করার পর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) হস্তক্ষেপে বিতর্কিত লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ফুটবলবিশ্বে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধেই যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেন বালোগুন। তবে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে বলের দখল নিতে গিয়ে বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
রিপ্লেতে দেখা যায়, বলের জন্য লড়াইয়ের সময় দুই খেলোয়াড়ের পা জড়িয়ে যায় এবং বালোগুনের পা প্রতিপক্ষের পায়ের পেছনের অংশে স্পর্শ করে নিচে নেমে আসে। ম্যাচের ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউস প্রথমে ঘটনাটিকে ফাউল হিসেবেও দেখেননি এবং খেলা চালিয়ে যেতে দেন।
তবে কিছুক্ষণ পর ভিএআর কর্মকর্তাদের পরামর্শে রেফারি পিচসাইড মনিটরে গিয়ে ঘটনাটি পুনরায় পর্যবেক্ষণ করেন। ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সরাসরি লাল কার্ড দেখান বালোগুনকে।
লাল কার্ড পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের এই ফরোয়ার্ডকে বিস্মিত ও হতাশ দেখা যায়। ভিএআরের এই সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
অনেক ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থক ঘটনাটির তুলনা করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির আলজেরিয়ার বিপক্ষে একটি ট্যাকলের সঙ্গে। তাদের দাবি, একই ধরনের ঘটনায় মেসি কোনো কার্ড না পেলেও বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে।
বিবিসির ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ইংল্যান্ড নারী ফুটবলার সু স্মিথও সিদ্ধান্তটিকে কঠোর বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, ধীরগতির রিপ্লেতে ঘটনাটি লাল কার্ডের মতো মনে হলেও স্বাভাবিক গতিতে দেখলে এটি অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, বালোগুন মূলত বল আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবেই পা ফেলেছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত সেটি প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর পড়ে যায়।
বালোগুন মাঠ ছাড়ার পর প্রায় ২৫ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে। তবে সংখ্যায় পিছিয়ে থেকেও দারুণ লড়াই চালিয়ে যায় দলটি। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে মালিক টিলম্যান দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিশ্চিত করেন।
ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, গুরুতর ফাউলের কারণে বালোগুনকে অন্তত এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ থাকতে হবে। ডিসিপ্লিনারি কমিটি চাইলে এই নিষেধাজ্ঞা আরও এক বা দুই ম্যাচ বাড়াতে পারে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই।
এই লাল কার্ডের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করার পর লাল কার্ড দেখা ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ ফুটবলার হলেন ফোলারিন বালোগুন। এর আগে এই তালিকায় ছিলেন ব্রাজিলের গ্যারিঞ্চা (১৯৬২), ব্রাজিলের রোনালদিনিয়ো (২০০২) এবং ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান, যিনি ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে বিখ্যাত হেডবাটের জন্য লাল কার্ড দেখেছিলেন।