• হোম > বাংলাদেশ > বাংলাদেশ পুলিশের কাছে স্নাইপার ছিল না—এ দাবি কি সত্য? যা বলছে নথি ও তদন্ত

বাংলাদেশ পুলিশের কাছে স্নাইপার ছিল না—এ দাবি কি সত্য? যা বলছে নথি ও তদন্ত

  • বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৯:১৩
  • ৯৯

 

 ---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশ পুলিশের কাছে স্নাইপার রাইফেল ছিল না—এমন দাবি করেছেন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধান, সরকারি দরপত্রের তথ্য এবং আন্তর্জাতিক তদন্ত প্রতিবেদালোর সঙ্গে এই বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়নি।

গত ১ জুলাই চ্যানেল আইয়ের ‘টু দ্য পয়েন্ট’ অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে আলোচনার সময় নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশের কাছে স্নাইপার ছিল না, বাংলাদেশে স্নাইপার নাই।”

একই অনুষ্ঠানে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ দাবি করেন, যাত্রাবাড়ীতে নিহত দুই পুলিশ সদস্য স্নাইপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর জবাবেই নিলোফার চৌধুরী মনি এই মন্তব্য করেন।

কী বলছে তথ্য-প্রমাণ?

পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ পুলিশ ২০২৪ সালের আগে একাধিকবার ৭.৬২ মিলিমিটার স্নাইপার রাইফেল সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছিল।

নেত্র নিউজের ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত অনুসন্ধান অনুযায়ী—

  • ২০২৩ সালের মার্চে পুলিশ সদর দপ্তর ৩০টি ৭.৬২ মিমি স্নাইপার রাইফেল কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করে।
  • ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ আরও ৫০টি ৭.৬২ মিমি স্নাইপার রাইফেল সংগ্রহের জন্য নতুন দরপত্র প্রকাশ করা হয়।
  • এর আগে ২০১৯ সালে ১৫ হাজার ৭.৬২ মিমি সেমি-অটোমেটিক রাইফেল সংগ্রহের জন্যও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে নিউ এজ-এর ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে একই ধরনের তথ্য প্রকাশিত হয়, যেখানে পুলিশ সদর দপ্তরের স্নাইপার রাইফেল সংগ্রহের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

স্বাধীন অনুসন্ধানেও মিলেছে তথ্য

২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জুলাই আন্দোলন দমনে স্নাইপার ব্যবহারের বিভিন্ন তথ্য ও আলামত তুলে ধরা হয়।

এছাড়া জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে আন্দোলন দমনের সময় ৭.৬২ মিলিমিটার ক্যালিবারের প্রাণঘাতী গোলাবারুদ ব্যবহারের তথ্য উঠে আসে। যদিও প্রতিবেদনে সরাসরি প্রতিটি গুলি স্নাইপার রাইফেল থেকে ছোড়া হয়েছে—এমন দাবি করা হয়নি, তবে এই ক্যালিবারের গোলাবারুদ স্নাইপার রাইফেলেও ব্যবহৃত হয়।

রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়

গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছিল যে, বাংলাদেশ পুলিশের কাছে ৭.৬২ মিলিমিটার স্নাইপার রাইফেল ছিল না।

২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়ও সামাজিক মাধ্যমে একই ধরনের দাবি করেছিলেন।

তবে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথি, সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধান এবং আন্তর্জাতিক তদন্তে পুলিশের স্নাইপার রাইফেল সংগ্রহের উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উঠে আসে।

উপসংহার

উপলব্ধ সরকারি দরপত্র, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী “বাংলাদেশ পুলিশের কাছে স্নাইপার ছিল না”—নিলোফার চৌধুরী মনির এই বক্তব্যকে তথ্যসমর্থিত বলা যায় না। বরং একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে পুলিশের জন্য স্নাইপার রাইফেল সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং ৭.৬২ মিলিমিটার অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12982 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 12:28:20 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh