• হোম > বাংলাদেশ > ‘তিস্তা বাংলাদেশের প্রকল্প, ঢাকা যেভাবে চাইবে সেভাবেই সহায়তা করবে চীন’

‘তিস্তা বাংলাদেশের প্রকল্প, ঢাকা যেভাবে চাইবে সেভাবেই সহায়তা করবে চীন’

  • বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৮:২৭
  • ৬৭

 

 ---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রতি নিজেদের পূর্ণ সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, তিস্তা প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রকল্প এবং বাংলাদেশ সরকার যেভাবে চাইবে, চীন ঠিক সেভাবেই সহযোগিতা করবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর বারিধারায় চীনা দূতাবাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি উন্নয়ন প্রকল্প। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে চীন সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, “তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের প্রকল্প। এটি আপনাদের নিজস্ব উদ্যোগ। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতেই চীন এতে সহযোগিতা করছে। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।”

ভারতের উদ্বেগ নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ইয়াও ওয়েন বলেন, এ প্রকল্পে চীনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের ইচ্ছা ও প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে। অন্য কোনো বিষয় তাদের বিবেচনায় নেই।

তিনি আরও বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং প্রকল্পের জটিলতা বিবেচনায় একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিজ্ঞানসম্মত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সমীক্ষার ভিত্তিতেই প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে।

রাষ্ট্রদূত জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তার ভাষায়, এটি দুই দেশের সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।

তিনি বলেন, “এই প্রকল্পটি ১ কোটিরও বেশি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে।”

সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত শুরু করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন খুব শিগগিরই তাদের শীর্ষ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে পাঠাবে। ফলে প্রকল্পের কারিগরি মূল্যায়ন এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি শিগগিরই দেখা যাবে।

তিনি আরও বলেন, চীন সবসময় বিজ্ঞানভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেয়। তাই একটি শক্তিশালী কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে দুই দেশ এগিয়ে যাবে।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12967 ,   Print Date & Time: Monday, 17 August 2026, 03:19:15 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh