• হোম > বাংলাদেশ > ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিরাপদ রাষ্ট্র গড়তে কাজ করছে সরকার’—নজরুল বর্ষ উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিরাপদ রাষ্ট্র গড়তে কাজ করছে সরকার’—নজরুল বর্ষ উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

  • বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৮:১০
  • ৬৭

 

 ---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, কোনো অপশক্তি যেন দলীয় স্বার্থে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে এবং কোনো প্রাণীও মানুষের নিষ্ঠুরতার শিকার হবে না।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সারা দেশে একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উদ্‌যাপন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তিন দিনব্যাপী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর লোগো ও স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ না করলেও তার হৃদয়জুড়ে ছিল বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের মানুষও তাকে হৃদয়ের গভীরতম স্থানে ধারণ করে। তিনি জানান, কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণা করার সম্ভাব্যতা সরকার যাচাই করছে।

তিনি আরও জানান, সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য, প্রেম, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক ছিলেন জাতীয় কবি। অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য, কুসংস্কার ও অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুলের কলম ছিল এক শক্তিশালী প্রতিবাদের ভাষা। তার সাহিত্য, গান ও দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যেও তার মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দিতে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নতুন প্রজন্ম যেমন জ্ঞানের নতুন দিগন্তে প্রবেশ করছে, তেমনি মূল্যবোধের সংকটের মুখেও পড়ছে। এ বাস্তবতায় নজরুলের সাহিত্য, কবিতা, গান ও মানবিক দর্শন তরুণদের জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘নজরুল বর্ষ’ শুধু সরকারি আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গবেষক, শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী উদযাপন করতে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রচারের উদ্যোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’-এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুলসংগীতের আসর, নাট্যোৎসব, প্রকাশনা ও চিত্রপ্রদর্শনীসহ বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জাতীয় কবিকে ‘বাংলাদেশের মন’ বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নজরুলের সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবিকতার দর্শনই হতে পারে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণের অন্যতম ভিত্তি।

বক্তব্যের শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক চেতনাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্ম নতুনভাবে মূল্যায়িত হবে এবং তার বিশ্বজনীন মানবিক বার্তা আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়বে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12965 ,   Print Date & Time: Monday, 17 August 2026, 04:11:44 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh