• হোম > বাংলাদেশ > মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের মানুষের আবহমানকালের মূল্যবোধ

মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের মানুষের আবহমানকালের মূল্যবোধ

  • বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১২:৪১
  • ৩৫

মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের মানুষের আবহমানকালের মূল্যবোধ

অপশক্তি নিজেদের সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালালেও, সবাই মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের মানুষের চিরায়ত মূল্যবোধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারবে। পাশাপাশি মানুষের পাশাপাশি কোনো প্রাণীও যেন মানুষের হিংস্রতার শিকার না হয়, সেটিও সরকার নিশ্চিত করতে চায়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নজরুল বর্ষ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ না করলেও তার হৃদয়জুড়ে ছিল বাংলাদেশ, আর বাংলাদেশও তাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯১৪ সালে কিশোর বয়সে নজরুল প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহের ত্রিশালে এসেছিলেন। কবির স্মৃতিধন্য সেই ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণা করার সম্ভাব্যতা সরকার খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলামকে বিদ্রোহ, প্রেম, বিরহ, তারুণ্য এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তিনি এক অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীনতা, শোষণ, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে নজরুলের কলম ছিল শানিত অস্ত্র। বিপ্লবী গান, ইসলামী সংগীত, ভজন, কীর্তন, শ্যামাসংগীত, প্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ—সব ক্ষেত্রেই তিনি বাঙালির পথপ্রদর্শক। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিকর্ম প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষা হয়ে উঠেছিল।

অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রের একটি বিষয় নিয়েও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেখানে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও নির্বাচিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে যদি নজরুল গবেষক, শিল্পী ও নজরুলপ্রেমীদের ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকার কথা বলা হতো, তাহলে সেটি অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যের সঙ্গে আরও বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো। তিনি বলেন, যেমন কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে নজরুল গবেষকদের যুক্ত করার বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক, তেমনি নজরুল বর্ষ উদযাপনে সরকারি কর্মকর্তাদের এমনভাবে যুক্ত করার বিষয়টিও উদ্দেশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই নয়।

প্রধানমন্ত্রী কবিকে নিয়ে আলোচনা সরকারি অফিসের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নতুন প্রজন্ম যেমন জ্ঞানের নতুন দিগন্ত পাচ্ছে, তেমনি মূল্যবোধ হারিয়ে বিপথে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এমন সময়ে নজরুলের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখি’ কিংবা ‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে, দেখবো এবার জগৎটাকে’—এর মতো সৃষ্টিগুলো নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা ও মানবিকতার পথে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

নিজের মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তার কাছে কাজী নজরুল ইসলাম হলেন ‘বাংলাদেশের মন’। তিনি জানান, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বছরজুড়ে সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুলসংগীতের আসর, নাট্যোৎসব, প্রকাশনা ও চিত্রপ্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে কবির সাহিত্য ও সংগীত সংরক্ষণ এবং বহুভাষায় অনুবাদের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’র মাধ্যমে জেলা, উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12951 ,   Print Date & Time: Monday, 17 August 2026, 10:09:53 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh