• হোম > বিদেশ | মধ্যপ্রাচ্য > যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা: আপাতত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা থেকে সরে দাঁড়াল তেহরান

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা: আপাতত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা থেকে সরে দাঁড়াল তেহরান

  • বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৯:০৭
  • ৪১

 ---

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নয়, জানিয়ে দিল ইরান

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপাতত কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবে না বলে জানিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (১ জুলাই) দেশটির কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করা মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। এতে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ইরানের কর্মকর্তারা বলেন, দুই সপ্তাহ আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো আগে সম্পূর্ণভাবে চূড়ান্ত করতে হবে। এরপর পারমাণবিক কর্মসূচির সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতাসহ অন্যান্য জটিল ইস্যুতে আলোচনা শুরু হতে পারে। তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, প্রাথমিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনো দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য রয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, কিছু অর্থনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আংশিক শিথিল এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন। হোয়াইট হাউস এই সফরকে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করলেও ইরান ও কাতার জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের কোনো সরাসরি বৈঠক হবে না। আলোচনা চলবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইতোমধ্যে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পর্যায়ের বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিম্নপর্যায়ের কৌশলগত আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, অচলাবস্থা কাটাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।

যুদ্ধের কারণে কিছুদিন ব্যাহত থাকার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে হতো। ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে তারা এই নৌপথ পরিচালনার অধিকার রাখে এবং আগস্টের মাঝামাঝি থেকে এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালির সার্বভৌম অধিকার ইরান ও ওমানের এবং এই জলপথে জাহাজ চলাচলের নিয়ম নির্ধারণের অধিকারও তাদের রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ইরানকে কোনো ধরনের ফি আদায় করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন প্রায় যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনা কিছুটা কমলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে মতবিরোধ বহাল রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো জটিল ও অনিশ্চিত।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12895 ,   Print Date & Time: Friday, 21 August 2026, 05:56:56 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh